ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

এক অনাথ শিশুর জীবন সংগ্রাম

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৩ ৮:১০:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৩ ১২:৫৬:৪৭ পিএম

যে বয়সে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা, শৈশব উপভোগ করার কথা, সেই বয়সেই নিজের সব দায়িত্ব নিজেকেই বহন করতে হচ্ছে তাকে।  

বয়স কত হবে? খুব বেশি হলে ৯ বা ১০। যে বয়সে তার মায়ের গলা জড়িয়ে ঘুমানোর কথা ছিল সেই বয়সেই শিশুটিকে একটি জীর্ণ-শীর্ণ কুটিরে ঘুমাতে হচ্ছে একা। অসুখে-বিসুখেও তাকে দেখার কেউ নেই। কেউ নেই তাকে আদর দেবার, আবদার শোনার।

চোখের কোণে জল এনে দেবার মতো এই ঘটনা ভিয়েতনামি এক বালকের। নাম ডাং ভ্যান খুইয়ান। একদম শিশু বয়সে মাকে হারিয়েছে ডাং। মা মারা যাবার পর ডাংয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় দাদি। কারণ তার বাবা নির্মাণ শ্রমিক। কাজের জন্য তাকে বছরের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতে হয়। ফলে ডাংয়ের বাবার পক্ষে তাকে দেখাশোনা করা সম্ভব নয়।

তবে বাইরে থাকলেও বাবার দায়িত্ব যথাযথ পালন করেন ডাংয়ের বাবা। নিয়মিত টাকা পাঠান। বাবার পাঠানো টাকা এবং দাদির আদর মিলিয়ে ডাংয়ের শৈশব ভালোই কাটছিল। জন্ম থেকেই যে দুঃখী তার কপালে কি আর সুখ সয়? মা মারা যাবার বছর তিনেক পরেই এক দুর্ঘটনায় বাবাও মারা যায়। বাবাকে হারিয়ে যখন ডাংয়ের জীবন চরম অনিশ্চয়তার দোলায় দুলছে তখনই তার দাদি আবার বিয়ে করে। দাদি তাকে ফেলে নতুন ঠিকানায় চলে যায়। একে একে সবাইকে হারিয়ে ডাংয়ের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। একদম একা হয়ে পড়ে সে। পিতৃকুল বা মাতৃকুলের সবাই তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অকুল পাথারে পড়ে তার জীবন।

তবে এত দুঃখের মাঝেও ডাং মনোবল হারায়নি। সম্ভবত অধিক শোক তার শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সবাইকে হারিয়েও সে পিতৃভিটা ছেড়ে অন্য কোথাও যায়নি। যদিও অনেকেই তাকে দত্তক নিতে চেয়েছে। কেউ কেউ তাকে এতিমখানায় চলে যেতেও বলেছে। ডাং কিছুতেই রাজি হয়নি। 

সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। নিজেদের জমিতে কঁচি হাতে ফসল ফলাচ্ছে। নিজের রান্না নিজেই করছে। তার প্রতিবেশীরাও টুকটাক সাহায্য করে। সম্প্র্রতি ডাংয়ের স্কুল শিক্ষক একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ছোট্ট বালকের জীবনের করুণ কাহিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিওটি দেখার পর ভিয়েতনাম থেকে অনেকেই সাহায্যের জন্য সাড়া দিয়েছে। অনেক নিঃসন্তান দম্পতি ডাংকে দত্তক নিতে চেয়েছেন। তবে ডাং তার সিন্ধান্তে এখনও অটল। সে কোথাও যেতে চায় না, নিজের জীবনের ভার নিজেই বইতে চায়।



ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন