Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪২৭ ||  ২২ রজব ১৪৪২

মহাকাশচারীর মূত্রে চাঁদে তৈরি হবে বাড়ি

জাহিদ সাদেক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৪৫, ১৪ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
মহাকাশচারীর মূত্রে চাঁদে তৈরি হবে বাড়ি

যেহেতু মানব বর্জ্যে সুপার প্লাস্টিসাইজার (কম উদ্বায়ী জৈব এস্টার) থাকে, তাই মহাকাশচারীর মূত্র দিয়ে চাঁদে শক্তিশালী কংক্রিট তৈরি করে বাড়ি নির্মাণ করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) এ দাবি করেছে।

ইএসএ-এর গবেষক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের মূত্রে যে উপাদান থাকে সেগুলোর অন্যতম হলো ইউরিয়া। ইউরিয়া চাঁদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যে কংক্রিট হয়, তা পৃথিবীর উপগ্রহে ঘর বানানোর পক্ষে যথেষ্ট কার্যকরী। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, কংক্রিটের অনুরূপ নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে এবং পানির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করার জন্য সাধারণ প্লাস্টিসাইজারের চেয়ে চাঁদে জিওপলিমার মিশ্রণে ইউরিয়া যুক্ত করলে বরং ভালো কাজ করে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরা এভাবে কংক্রিট তৈরিও করেছেন। 

চাঁদের আবহাওয়ায় এই কংক্রিট যথেষ্ট টেকসই হবে বলেও বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। এ বিষয়ে গবেষণাগারে  যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়েছে। এটি অন্য কংক্রিটের চেয়ে অন্তত দশগুন বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। ইএসএ-এর প্রধান গবেষক মার্লিস আর্নহফ বলেন, ‘এই উদ্ভাবন পৃথিবী থেকে চাঁদে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সরবরাহ করার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করবে। তাছাড়া দুটি উপাদান অর্থাৎ চন্দ্রপৃষ্ঠের যে কোনো জায়গার মাটি এবং ইউরিয়া সহজলভ্য।’

ভবিষ্যতে চাঁদে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে দেড় লিটার তরল বর্জ্য ত্যাগ করবে বলেও জানান তিনি।
 


উল্লেখ্য, চাঁদের দিন-রাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১৭১ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়। উভয় তাপমাত্রাতেই কংক্রিটের পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন এর চেয়েও কম তাপমাত্রাতে এই কংক্রিট টেকে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশার কথা হলো, এ ধরনের কংক্রিট বানানোর জন্য পৃথিবী থেকে কিছু নিয়ে যেতে হবে না। চাঁদের ঝুরঝুরে মাটি, মূত্রে থাকা ইউরিয়া এবং পানিই যথেষ্ট। পানি এই কাজের জন্য খুব অল্প পরিমাণে লাগে, যা মূত্র থেকেই পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, আগামী দিনে মানুষ গবেষণাসহ বিভিন্ন কারণে চাঁদে থাকার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু থাকার জন্য ঘর-বাড়ি বানানো প্রয়োজন। তাই বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন। সেই গবেষণা অনেকটাই এগিয়ে গেল ইএসএ-এর এই উদ্ভাবনে।

তথ্য ও ছবি: ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়