ঢাকা, বুধবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সু-স্বাদুর স্বাদ অন্যরকম

হাকিম মাহি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৫ ১২:৩৭:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১৭ ১০:৫৩:৪৩ এএম

হাকিম মাহি: দু’ধারে শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝখানে সবুজ চিড়ে তৈরি হয়েছে ইট পাথরের রাস্তা। কোথাও হৈচৈ নেই। শান্ত পরিবেশ। তবে মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা বৈচিত্রের পাখির সুমধুর কণ্ঠ।

রাস্তার দু’পাশে সবুজ পরিবেশে কিছুটা নগরায়নের ছাপ দেখা যায়। তবে বৃক্ষরাজি নগরায়নকে তার সবুজ পাতার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। খানিকটা দূর যেতেই চোখে পড়লো ছোটখাটো কিন্তু বেশ গোছালো একটি খাবার হোটেল। অনেকক্ষণ দু’বন্ধু মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করছি। পেটে খুব ক্ষুধা। তাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে দু’বন্ধু নেমে পড়লাম। হোটেলের বাইরে যতটা না সুন্দর, তার চেয়ে ভেতরের পরিবেশ ও দেয়ালে টানানো খাবারের তালিকা আমাদের রীতিমত বিস্মিত করেছে।

হাতমুখ ধুয়ে একটি কাঠের টেবিলের দু’পাশে দু’জন বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি একটি ছেলে আমাদের কাছে এসে খাবারের তালিকা দেখিয়ে বললো, দাদা কী খাবেন? আমি এত এতকিছু খাবারের তালিকায় দেখে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। ক্ষেতে আবাদ করা শাক-সবজি থেকে শুরু করে প্রায় ৪০ প্রকারের ভর্তা, ৮ প্রকারের নদী ও খাল-বিলের মাছ। গ্রামে চড়া হাঁস-মুরগির মাংস, গরু-খাসি তো কমন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় সরিষা বাটা দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না। দেখতে দেখতে ততক্ষণে জিভে জল চলে আসছে। গ্রাম্য পরিবেশে সাজানো হোটেল দেখে ক্ষুধাকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

কোনটা রেখে কোনটা খাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। বললাম, দাদা ভাই আমরা তো জানি না কোন খাবার কেমন স্বাদের, তোমার মতো করে আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো কিছু আইটেম নিয়ে আসো। ওই ফিরে গেলো রান্না ঘরে, ১০ মিনিট পরে আরো দু’জন খাবার পরিবেশককে নিয়ে হাজির হলো। সবার হাতে খাবারের বহর। মোটামুটি ১০ থেকে ১২ প্রকারের ভর্তা, দো’পেয়াজো করা নদীর বেলে মাছ, বিলের পাঁচমিশালি মাছ, পাতলা ডাল ইত্যাদি। শেষে নিজেদের তৈরি দই ও মিষ্টান্নও খাওয়ালেন। সপ্তাহ খানেক আগে খেয়েছি, মনে হয় আজও সে খাবারের স্বাদ জিভে লেগে আছে।

হোটেল মালিক আর কর্মচারীদের দেখে মনে হলো ওরা একে-অপরের আত্মীয়। জানতে ইচ্ছা করলো তারা কে কার কী হোন। তারা বললো, তাদের পরিবারের সবাই মিলে এগুলো রান্না করেন, আর তাদের সহযোগিতার জন্য বাইরের ৩/৪ জন লোক নিয়েছেন। বলা যায়, এটি ঘরোয়া হোটেল।       

হোটেলটি বেশি দূরে নয়। রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের মালঞ্চ মেডিক্যাল রোডের পাশে অবস্থিত। হোটেলের নাম ‘সু-স্বাদু খাবার হোটেল’। সকাল থেকেই খোলা থাকে, তবে দুপুর ১২টা থেকে মধ্যাহ্ন ভোজ শুরু হয়। হোটেল চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। হোটেল দেখাশোনা করেন বাবা-ছেলে দু’জনে মিলে। বাবা আবদুল সাত্তার মজুমদার আগে থেকেই বাবুর্চি কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। আর ছেলে সাদ্দাম হোসেন এর আগে খামারি ছিলেন।

 

 

আবদুল সাত্তার মজুমদার বলেন, ‘আমাদের তো বিজ্ঞাপন দেয়ার মতো অর্থ নাই, যে একবার আমাদের এখানে খেয়ে যায় সে বারবার আসে। আর এ খাবার আমার নিজের হাতে তৈরি। অন্য কোনো বাবুর্চি দিয়ে আমরা রান্না করি না।’

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা নিজেদের খামারে এই শাক-সবজি চাষ করি। নদী ও খাল-বিল থেকে মাছ কিনে আনি, আর গ্রাম থেকে হাঁস-মুরগি সংগ্রহ করি। আগে হোটেল একটু কম চলতো, এখন অনেক ভালো চলে। অনেক দূর থেকে খাবার প্রিয় মানুষজন এসে খেয়ে যায়। খাবার প্যাকেট করে নিয়েও যায়। আমাদের হোটেলকে উদ্দেশ্য করে মানুষ এখানে ভ্রমণে আসে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯/হাকিম মাহি/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন