ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

ঈদের রাতের মাহাত্ম্য

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ১০ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ১৪:০২, ১০ এপ্রিল ২০২৪
ঈদের রাতের মাহাত্ম্য

ঈদ অর্থ উৎসব, পুনরাগমন, পুনরাবৃত্তি, বারবার ফিরে আসা ইত্যাদি। উৎসবের এ বিশেষ দিবস যেহেতু প্রতি বছর আমাদের মাঝে নতুনভাবে ফিরে আসে, তাই একে ঈদ বলা হয়। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসব উদযাপনের নির্দিষ্ট দিবস রয়েছে। মহান আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের আনন্দ উদযাপনের জন্য দু’টি দিবস দান করেছেন। এ দিবসে বিশ্ব মুসলিম সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শামিল হয় আনন্দের বিশেষ মোহনায়। ঈদের আগমনে আনন্দিত হয় না, এমন মুসলমান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই এ কথা সর্বজনবিদিত যে, ঈদ বিশ্ব মুসলমানের সর্বজনীন উৎসব।

প্রিয় পাঠক! যে বান্দা শত আনন্দের মাঝেও আল্লাহ তা’আলাকে ভোলে না; বরং ইবাদত তথা নামাজ, যিকির, দোয়ার মাধ্যমে অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান স্রষ্টার দরবারে হাজির হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে মাগফিরাতের চাদরে আবৃত করে জিন্দেগীর গুনাহসমূহ মাফ করে দেন এবং তার জন্য ঘোষণা করেন চিরশান্তির নীড় জান্নাতের সুসংবাদ। 

হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। ৮ই জিলহজ্জের রাত, আরাফাতের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ই শা’বানের রাত। (তারগীব ও তারহীব)

হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় দুই ঈদের রাতে জাগরণ (ইবাদত-বন্দেগী) করবে; তার ক্বালব ওই (কিয়ামতের) দিনেও মরবে না, যে দিন (ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কারণে) মানুষের অন্তরসমূহ মারা যাবে। (ইবনে মাযাহ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, পাঁচটি রাতের দু’আ কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রাতগুলো হলো: জুমআর রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতরের রাত ও ঈদুল আজহার রাত। 

এ ছাড়াও আরো অসংখ্য হাদীস দ্বারা ঈদের রাতের ফজিলত ও তাৎপর্য অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সঙ্গত কারণেই মুমিনের জীবনে ঈদের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো- ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা তথা উভয় ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে নামাজ, যিকির, তিলাওয়াত ও দেয়ার মাধ্যমে মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি, সান্নিধ্য ও মাগফিরাত কামনা করা। দয়াময় প্রভুর কুদরতি কদমে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে নিজের অপরাধসমূহ মার্জনা করিয়ে নেওয়া এবং কলুষমুক্ত অবস্থায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা। 

শাহেদ//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়