Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৩ ১৪২৮ ||  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সুখ্যাতির কথা বলে বোবা বিরিয়ানি 

জাহিদ সাদেক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:৪০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
সুখ্যাতির কথা বলে বোবা বিরিয়ানি 

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কী কারণে বিখ্যাত?
এখানে আছে ইতিহাসখ্যাত কিছু স্থাপনা। আছে বিখ্যাত শিয়া মসজিদ। বিহারী ক্যাম্প। কৃষি মার্কেট। এলাকার প্রধান সড়কগুলো ইতিহাসখ্যাতদের নামে: হুমায়ূন রোড, বাবর রোড, নূরজাহান রোড।

তো মোগল আমলের বাদশাহরা যেখানে থাকবেন সেখানে মোগল খানা থাকাটাই স্বাভাবিক। এই খাবারের জন্যও মোহাম্মদপুরের আলাদা সুনাম রয়েছে। তারই একটি মোস্তাকিমের চাপ, অন্যটি বোবা বিরিয়ানি।

অবশ্য আপনি যদি মোহাম্মদপুর গিয়ে কারো সাহায্য না নিয়ে নিজে নিজে বিরিয়ানির দোকানটি খুঁজতে যান তাহলে পাবেন না নিশ্চিত। এমনকি ঠিকানা জেনে গেলেও না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এই দোকানের সাইনবোর্ডে বড় করে লেখা ‘ফায়জানে মদিনা বিরিয়ানি হাউজ’। দিব্যি দিয়ে বলছি- এ নামে দোকানটি কেউ চেনেন না! তবে হ্যাঁ, যদি ‘বোবা বিরিয়ানি’ বলেন এক বাক্যে সবাই পথ দেখিয়ে দেবেন।  

মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পের মোস্তাকিমের চাপের দোকান পার হয়ে, রাস্তার শেষ মাথায় গিয়ে হাতের ডানে ঢুকলেই সারি সারি কাপড়ের দোকান। এই গলি দিয়ে একটু এগিয়ে হাতের বামে দ্বিতীয় গলির মাথায় দেখা মিলবে বোবা বিরিয়ানির। অবশ্য দূর থেকে বিরিয়ানির সুবাসই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে সেখানে। এমনই তার সুখ্যাতি। 

বোবা বিরিয়ানির বর্তমান স্বত্ত্বাধিকারী আফতাব হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জেনেভা ক্যাম্পে তার বাবা মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বন্ধু ভোলা বাবুর্চিকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ফায়জানে মদিনা বিরিয়ানি হাউস। তারা কেউই বেঁচে নেই। বড় ছেলে আফতাব হোসেন সামলাচ্ছেন বাবার ব্যবসা। 

‘বোবা বিরিয়ানি’ নামকরণের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে দোকানে পরিবেশনকারী হিসেবে কাজে যোগ দেন আক্তার হোসেনের বন্ধুর ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী সামির। সে কথা বলতে পারত না। এক পর্যায়ে তাকে উদ্দেশ্য করে সবাই বলতো- চল বোবা মামার দোকানের বিরিয়ানি খেয়ে আসি। এলাকায় বিষয়টি প্রচলিত হয়ে গেলে এক সময় নাম হয়ে যায় বোবার বিরিয়ানি। এটি লোকমুখে প্রচারিত নাম।

মজার ব্যাপার শুরুতে এই দোকানে বিরিয়ানি নয়, বিক্রি হতো তেহারি। প্রতি প্লেট পাঁচ টাকা। টিনের প্লেটে তেহারি পরিবেশন করা হতো। দোকানটির অবস্থানও ছিল বর্তমান জায়গা থেকে বেশ দূরে। জেনেভা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বর্তমান জায়গায় দোকানটি স্থানান্তর করা হয়।

বোবার বিরিয়ানি কেন বিখ্যাত? এমন প্রশ্নের জবাবে আফতাব হোসেন বলেন, এই বিরিয়ানি খাওয়ার সময় মুখে পড়বে না অযাচিত এলাচ কিংবা লবঙ্গ। বিরিয়ানি রান্না হয় পরিমিত তেল ও মসলা দিয়ে। এটি মূলত কাচ্চি বিরিয়ানি। মাংস ও চাল দীর্ঘ সময় দমে রেখে কাঠের চুলায় রান্না করা হয়। ফলে স্বাদ হয় অনন্য। দীর্ঘ সময় দমে থাকার কারণে মাংসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা রস এবং মসলার সুগন্ধ এতে বাড়তি স্বাদ যুক্ত করে।

দুপুর ১২টা থেকেই দোকানে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয়- এতটাই চাপ সামলাতে হয় দোকানের প্রতিটি কর্মচারীকে। প্রধান বাবুর্চি মো. ইশফাক প্রায় ২০ বছর এই দোকানে কাজ করছেন। তিনি জানান, দোকানে প্রতিদিন ৬ ডেকচি বিরিয়ানি রান্না হয়। প্রতি ডেকচিতে থাকে ৩০ কেজি চাল, সমপরিমাণ মাংস এবং ১৫ কেজি আলু, ৭ লিটার তেল, ২০০ গ্রাম দুধ এবং প্রয়োজনীয় মসলা। তার মতে বোবার বিরিয়ানি সুস্বাদু হওয়ার প্রধান কারণ লাকড়ির চুলা। এ ছাড়া মসলাতেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ফুল প্লেট বিরিয়ানির জন্য আপনাকে গুনতে হবে এখানে মাত্র ৮০ টাকা। যদিও ভোজনরসিকদের কাছে পরিমাণটা কম মনে হতে পারে। এজন্য রয়েছে স্পেশাল প্লেট ১২০ টাকা এবং ভিআইপি প্লেট ২০০ টাকা। চাইলে হাফ প্লেট ৪০ টাকা দিয়েও নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিরিয়ানির সঙ্গে পাবেন মাত্র দুই টুকরো মাংস।

তবে যারা ধোঁয়া ওঠা বোবার বিরিয়ানির স্বাদ নিতে চান তাদের যেতে হবে সকাল ৮টার দিকে। সকালে যারা পারবেন না তাদের জন্য সুযোগ থাকছে বিকেল ৪টায়। কারণ এই দুই সময় চুলায় রান্না শেষে বিরিয়ানি নামানো হয়। 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়