ফুটবল বিশ্বকাপে বিতর্কিত যত ‘স্লেজিং’
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ফুটবল বিশ্বকাপে স্লেজিং সবসময়ই এক ধরনের ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’। এই যুদ্ধে বলের চেয়ে বেশি কাজ করে কথা, ইঙ্গিত আর মানসিক চাপ। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও সরাসরি আগের মতো বড় কোনো মাঠের অপমানজনক ঘটনা এখনও শিরোনাম দখল করেনি, তবে ম্যাচের ভেতরে ও বাইরে কথার লড়াই, রেফারিং বিতর্ক এবং মানসিক উত্তেজনা ক্রমেই আলোচনায় উঠে এসেছে।
কিছু ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছোটখাটো মুখোমুখি উত্তেজনা, সামাজিক মাধ্যমে ট্র্যাশ টক, আর কোচদের তীব্র মন্তব্য—সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, আধুনিক যুগে স্লেজিং আর আগের মতো প্রকাশ্য সংঘর্ষে না গিয়ে এখন অনেকটাই “সাবটল সাইকোলজিক্যাল গেম”-এ পরিণত হয়েছে।ক্রিকেটে স্লেজিং শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হলেও ফুটবলেও এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশ্বকাপের মতো উচ্চচাপের আসরে খেলোয়াড়রা প্রায়ই প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট করতে বা আবেগকে উসকে দিতে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছেন।
বিশ্বকাপে স্লেজিংয়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১. ১৯৯০: ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড বনাম রুডি ফোলার
ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড ও রুডি ফেলার -এর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে রাইকার্ড ফোলারের দিকে থুথু নিক্ষেপ করেন। দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মাঠের ঘটনার একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
২. ২০০৬: জিদান–মাতেরাজ্জি বিতর্ক
জিনেদিন জিদান ও মার্কো মাতেরাত্সির ঘটনা এখনও বিশ্ব মনে রেখেছে। জিনেদিন জিদানের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ, ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। ওই ম্যাচে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে মৌখিক বাক্যযুদ্ধ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। পরে মাতেরাজ্জি স্বীকার করেন, তিনি জিদানকে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে জিদান মাথা দিয়ে আঘাত করেন এবং লাল কার্ড দেখেন।
৩. ১৯৬২: ‘ব্যাটল অব সান্তিয়াগো’
'ব্যাটল অব সান্তিয়াগো' নামে পরিচিত চিলি-ইতালি ম্যাচটি ছিল লাগাতার উসকানি, অপমান এবং সহিংসতায় ভরা। ম্যাচের আগে ইতালীয় সাংবাদিকদের মন্তব্যও দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এই ম্যাচকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে রূঢ় ও আক্রমণাত্মক ম্যাচগুলোর একটি ধরা হয়।
বর্তমান ফুটবলে প্রকাশ্য অপমান বা বর্ণবাদী মন্তব্যের বিরুদ্ধে ফিফা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্লেজিং এখন অনেকটাই সীমিত। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছোটখাটো খোঁচা, ট্র্যাশ টক বা মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা এখনও দেখা যায়, বিশেষ করে নকআউট ম্যাচ ও পেনাল্টি শুটআউটের সময়।
সূত্র: গোল ডটকম অবলম্বনে
ঢাকা/লিপি