ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ন্যাসাল ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলো ভারত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৩:১৬, ২৯ নভেম্বর ২০২২
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ন্যাসাল ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলো ভারত

ছবি: সংগৃহীত

করোনা মোকাবিলায় ন্যাসাল ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। ফলে প্রথমবার নিজেদের তৈরি সুঁই ছাড়া করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনতে যাচ্ছে ভারত বায়োটেক। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের হেটেরোলগাস বুস্টার ডোজ হিসেবে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

ভাইরাস মোকাবিলায় একজন মানুষ প্রাথমিকভাবে যেকোনো একটি ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ভাইরাসের জন্য অন্য ভ্যাকসিনের ব্যবহারকে হেটেরোলগাস বুস্টার ডোজ বলে। ভারতের বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের তৈরি কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন ব্যবহার করেছেন। এখন থেকে অনুমতি সাপেক্ষে ভারতীয় জনগণ বুস্টার ডোজ হিসেবে ভারত বায়োটেকের তৈরি ভ্যাকসিন বুস্টার ডোজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

ভারতীয় কোম্পানি বায়োটেক দাবি করেছে, করোনা মোকাবিলায় তৈরি ইন্ট্রান্যাসাল ভ্যাকসিন ইনকোভ্যাক অর্থাৎ BBV154 নিরাপদ বলেই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। এর ফেজ থ্রির নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সহনীয় এবং ইমিউনোজেনিক বলে প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেছে কোম্পানিটি।

বায়োটেকের প্রতিনিধিরা জানান, আগে সফলভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভ্যাকসিন প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখনও কারো শরীরে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি ভারত বায়োটেকের।

ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণা এলা জানিয়েছেন, ইনকোভ্যাক ইন্ট্রান্যাসাল ভ্যাকসিন এবং হেটেরোলগাস বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের কাছেও নজির। এই মুহূর্তে করোনা ভ্যাকসিনের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখতেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়াও ভবিষ্যতের জন্য অন্য ভ্যাকসিন নিয়েও তারা গবেষণা চালাচ্ছেন বলে জানান কৃষ্ণা এলা।

এই ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারত বায়োটেক শিম্পাঞ্জির কোল্ড ভাইরাস ব্যবহার করছে। আর এই গবেষণায় সাহায্য করেছে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি সেন্ট লুইস। নাকের ভেতরে কিংবা শ্লেষ্মায় করোনাভাইরাস থাকলে তার ওপরে গিয়ে কাজ করে এই ন্যাসাল ভ্যাকসিন। হাতে পুশ করা ভ্যাকসিন যে কাজটি সফলভাবে করতে পারে না। এটি মানবদেহে ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা সংক্রমণকে বাধা দেয় এবং মানুষের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এই সময়

/মেয়া/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়