ঢাকা     রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

জনবল নিয়োগ নয়, নির্মাণ ও কেনাকাটায় আগ্রহী স্বাস্থ্য বিভাগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০২, ২২ জুন ২০২৪  
জনবল নিয়োগ নয়, নির্মাণ ও কেনাকাটায় আগ্রহী স্বাস্থ্য বিভাগ

চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবা খাতের বিভিন্ন শাখায় জনবল নিয়োগে খুব একটা মনোযোগ নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। তাদের আগ্রহ একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ, নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণ এবং যন্ত্রপাতি কেনার দিকে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে একদম দায়সারা অবস্থানে তারা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থাপনা নির্মাণ আর কেনাকাটায় নগদ লেনদেন হয়, তাই সেই খাতেই আগ্রহ বেশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। তবে, সেবার মান বাড়াতে আরও বেশি চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান দরকার। জনবল নিয়োগে তাদের আগ্রহের কমতি দেখা যাচ্ছে।

করোনাকালে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পরও তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ডিএনসিসি মার্কেটকে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল বানানো হয়। দ্রুততম সময়ে একে একে হাসপাতালে যুক্ত হয় আইসিইউ, এসডিইউসহ আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি। তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে জনবল এনে করোনাকাল পার করে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালটি।

করোনা-পরবর্তীকালে হাসপাতালটির কার্যক্রম তেমন নেই বললেই চলে। হাসপাতালের ভেতরে পড়ে আছে কোটি টাকার সম্পদ। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই হাসপাতাল কিছুটা সাপোর্ট দিলেও বিভিন্ন সেকশনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো। অথচ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইচ্ছে করলে রাজধানীবাসীকে সেবা দিতে পারে ডিএনসিসির এই হাসপাতালটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের হাসপাতালে শয্যা বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার। সারা দেশে ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যা ১৪ হাজার। এছাড়াও সরকারি হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৫২ হাজার ৫৬০টি। অথচ, এসব হাসপাতালে ৩৭ হাজার ৪১৭টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক আছেন ২৯ হাজার ৩৮১ জন।

কাগজে-কলমে শূন্য পদ ৮ হাজার ৩৬টি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ আছেন ওএসডি হয়ে। নার্সের পদ খালি আছে প্রায় ৪৫ ভাগ। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ ৫ হাজার ৭৭৫টি। এর মধ্যে শূন্য পদ প্রায় ২ হাজার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রকল্পের তিনটি ধাপ থাকে—অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও জনবল নিয়োগ। প্রথম দুটি ধাপে টাকা কামানোর সুযোগ বেশি থাকায় সেদিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আগ্রহও বেশি বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল আর্সলান। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন মেশিনারিজ ক্রয়ে যতটা আগ্রহ, জনবল নিয়োগে ততটা আগ্রহ নেই তাদের।

করোনাকালে তড়িঘড়ি করে কিছু নিয়োগের পর মাত্র ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছে। একই অবস্থা নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রেও। এমনকি, সেই আপৎকাল সামাল দেওয়া অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ানরা অনেকেই এখন চাকরি হারিয়ে বেকার। অথচ, এ পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই কেনাকাটায় কমতি হয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেছেন, যদি কোনো প্রকল্প শুরু হয়ে থাকে, জনবল ছাড়া সেই প্রকল্প পাস হবে না। দুটোই সমানুপাতিক হতে হবে। শুধু প্রকল্প পাস করানো হবে, যন্ত্রপাতি কিনে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হবে; এটা তো সরকারের ক্ষতি, এভাবে তো চলতে পারে না।

এমন অবস্থায় চিকিৎসক সঙ্কট কাটাতে বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

এমএ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়