ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রক্তের বিনিময়ে পশুর চেয়ে খারাপ আচরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ২৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
রক্তের বিনিময়ে পশুর চেয়ে খারাপ আচরণ

প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রিসের কৃষিখাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য তারা মূলত গ্রিসকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এদের অধিকাংশকে এর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

এসব শ্রমিকদের অভিযোগ, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। অথচ শ্রমিকদের থাকার জন্য উপযুক্ত বাড়ির ব্যবস্থা তারা করতে চায় না। এমনকি মৌসুমি শ্রমিকরা থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে কোনো আবাসন সুবিধা পায়  না। এসব শ্রমিকদের অব্যবহৃত কৃষিজমি ও দাহ্যঝুঁকিতে রয়েছে এমন ঝুঁপড়িতে থাকাতে বাধ্য করা হয়। ব্যবহৃত পলিথিন, কার্ডবোর্ড ও নলখাগড়া দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঝুঁপড়ি।

গ্রিস বিশ্বের দশম বৃহত্তম স্ট্রবেরি রপ্তানিকারক। এই ফলটি চাষে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহের পর এটি দ্রুত পঁচতে শুরু করে।  এ কারণে ফসল সংগ্রহের পর মাঠেই দ্রুত এটি প্যাকেটজাত করতে হয়। এ কারণে এই খাতে শ্রমিকরাই হচ্ছে কৃষকের মেরুদণ্ড। তবে স্থানীয়রা এই কাজটি করতে নারাজ বলে কৃষকদের অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক অলাভজনক গণমাধ্যম প্রকাশনার কর্মী রিনা কুকরেজা গ্রিসের নিয়া ম্যানোলাডা গ্রাম সফর করে জানিয়েছেন, ওই গ্রামে কর্মরত ২৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের একটি দলের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

তারা তাকে বলেছে, ‘মাঠে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে আমরা কৃষকদের বিপুল পরিমাণ মুনাফ এনে দেই। তারা আমাদের সঙ্গে পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করে। আমরা চাই ঝুপড়ির মধ্যে কেমন দুর্দশার জীবন কাটাই সেটা যেন লোকজন জানে।’

রিনা কুকরেজা জানান, একেকটি গুচ্ছে ১০ থেকে ১৭টি ঝুপড়ি থাকে। এসব ঝুপড়িতে সব মিলিয়ে ২০০ থেকে ৩৫০ জন শ্রমিককে বাস করতে হয়। এসব  ঝুপড়ির জন্য ৩৩ থেকে ৩৮ মার্কিন ডলার করে ভাড়া গুনতে হয়। মৌসুমের সময় এমন একটি ঝুপড়ি ভাড়া দিয়েই কৃষক আয় করে ৫০০ থেকে ৫৫০ মার্কিন ডলার। আবার এই ভাড়ার জন্য কোনো রশিদও দেয়া হয় না। কোনো কারণে ভাড়া দিতে হলে কৃষক ও স্থানীয় পুলিশের হাতে হয়রাণির শিকার হতে হয়। এসব ঝুপড়িতে নেই পানি, বিদ্যুৎ বা পয়ঃব্যবস্থা। আবার এসব ঝুপড়ির ভেতরেই সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে হয় শ্রমিকদের।

গত বছরের জুনে এই গ্রামে অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুপড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। ঝুপড়ি থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ওই সময় ৩৪০ বাংলাদেশি শ্রমিক পাসপোর্ট, কাজের অনুমতি পত্র, বেতনের জমানো টাকা সব হারিয়ে ছিল। চলতি বছর সাতটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সাত বছর ধরে কাজ করা ৩০ বছরের এক বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের শ্রম দিয়ে লাভবান হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেকেই আমাদের অর্থ কামাইয়ের স্পৃহাকে ব্যবহার করে।’


ঢাকা/শাহেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়