ঢাকা     রোববার   ২৭ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৯ ||  ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

পূর্ব পাকিস্তানে ব্যর্থতা সামরিক নয়, রাজনৈতিক ছিল: বিদায়ী পাক সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২৪ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৮:৫২, ২৪ নভেম্বর ২০২২
পূর্ব পাকিস্তানে ব্যর্থতা সামরিক নয়, রাজনৈতিক ছিল: বিদায়ী পাক সেনাপ্রধান

পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) ব্যর্থতা সামরিক নয়,বরং রাজনৈতিক ছিল। বুধবার সামরিক বাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে দেওয়া তার শেষ ভাষণে তিনি এ কথা বলেছেন। খবর ডন অনলাইনের।

চলতি মাসের শেষে অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল বাজওয়া। ইতোমধ্যে নতুন  সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম মুনিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জেনারেল বাজওয়ার আমলেই পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এর জন্য রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল বাজওয়া বলেছেন, তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান, যা পাকিস্তানের মানুষ সাধারণত এড়িয়ে যান। এটি হচ্ছে, ১৯৭১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) সেনাদের আত্মসমর্পণ।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, ‘আমি কিছু তথ্য সংশোধন করতে চাই। প্রথমত, পূর্ব পাকিস্তান হাতছাড়া হওয়া সামরিক ছিল না বরং এটি ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা।’

তিনি জানান, ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানে লড়াইরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না, বরং এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৪ হাজার। অন্যরা ছিল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন। এই ৩৪ হাজার সেনা ভারতের আড়াই লাখ সেনা এবং মুক্তিবাহিনীর দুই লাখ যোদ্ধার মোকাবিলা করেছিল।

বিদায়ী সেনাপ্রধান বলেন, ‘সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের সেনাবাহিনী সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন এবং নজিরবিহীন ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, যা ভারতের সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল মানেকশ স্বীকার করেছেন।’

তিনি জানান, পূর্ব পাকিস্তানে লড়াই করা সেনাদের ত্যাগের বিষয়টি দেশে স্বীকৃতি পায়নি, যা ছিল ‘মহা অন্যায়।’

জেনারেল বাজওয়া গত ৭০ বছর ধরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করেছেন। এ হস্তক্ষেপকে তিনি ‘অসাংবিধানিক’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘...আমাদের সেনাবাহিনী যারা দিনরাত দেশ সেবায় ব্যস্ত থাকে, তারা প্রায়শই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। এর একটি বড় কারণ গত ৭০ বছর ধরে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ, যা অসাংবিধানিক। এ কারণেই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আমি আপনাদেরকে আশ্বাস দিচ্ছি, আমরা এই বিষয়ে অটল থাকব।’

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়