ঢাকা     বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩১

প্রতারণা, কানাডা থেকে ফিরতে হতে পারে ৭০০ ভারতীয়কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৫, ১৯ মার্চ ২০২৩  
প্রতারণা, কানাডা থেকে ফিরতে হতে পারে ৭০০ ভারতীয়কে

কানাডার কলেজে পড়়াশোনার জন্য লাখ লাখ টাকা নিলেও ভুয়ো ‘অফার লেটার’ দিয়েছেন এক এজেন্ট। বছর চারেক পর তা ধরা পড়ায় দেশে ফেরানো হতে পারে সাতশোর বেশি ভারতীয় কর্মীকে। যদিও যার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে, সেই এজেন্ট লাপাত্তা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩-৪ বছর আগে সাতশোর বেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছিলেন ব্রিজেশ মিশ্র নামে এক এজেন্ট। কানাডার কলেজে পড়াশোনার জন্য ওই শিক্ষার্থীদের অফার লেটার দিয়েছিলেন তিনি। তার বিনিময়ে কলেজের ফি এবং অন্যান্য খরচ বাবদ প্রত্যেকের থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছিলেন। কানাডার কলেজে পড়াশোনার পর ডিগ্রিও পেয়ে গিয়েছেন ওই ভারতীয়রা। এমনকি, সেই ডিগ্রির সাহায্যে সে দেশে চাকরিও করছেন। তবে এত বছর পর কানাডীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করলে এজেন্টের প্রতারণা ধরে ফেলে কানাডার বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাঞ্জাবের জলন্ধরে এডুকেশন মাইগ্রেশন সার্ভিসেস নামে একটি সংস্থার প্রধান ব্রিজেশ। অভিযোগ, কানাডায় কলেজে ভর্তির জন্য নথিপত্র জমা দেওয়া এবং ওই কলেজগুলো থেকে অফার লেটারের নামে প্রত্যেক  শিক্ষার্থীর থেকেই বিপুল অর্থ নিয়েছেন তিনি।

দ্বাদশের পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করেন। সে সময় কোনও এজেন্ট বা পরামর্শদাতা সংস্থার দ্বারস্থ হন তারা। সাধারণত, ওই পড়ুয়ারা শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র, ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ় টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) পরীক্ষার শংসাপত্র এবং বিদেশে পড়াশোনা চালানোর জন্য আর্থিক ক্ষমতা সম্পর্কিত প্রমাণ জমা দেন এজেন্টের কাছে। এ ধরনের নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হয়ে বিদেশি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ শুরু করেন তার এজেন্ট। শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের কোর্সে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগ্রহী, তা-ও প্রাধান্য দেন এজেন্টরা। তার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের হয়ে বিদেশি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তারা। কোনও বিদেশি কলেজ থেকে ‘অফার লেটার’ পেলে তার বদলে ওই কলেজে পড়াশোনার ফি জমা করাতে হয় শিক্ষার্থীকে। সেই সময় এজেন্টের মারফত তা জমা দেন শিক্ষার্থী। কলেজ থেকে অনুমোদন জানিয়ে শিক্ষার্থীকে চিঠি দেওয়া হলে জমা দেওয়া টাকার রশিদ পান ছাত্রছাত্রীরা। এছাড়া, প্রথম বছরে বিদেশে থাকার খরচাপাতি চালানোর অর্থ যে শিক্ষার্থীর রয়েছে, তার প্রমাণ সে সময় দিতে হয়। এসবই করা হয় এজেন্ট মারফত। বিদেশি কলেজে পড়ার সুযোগ পেলে অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করা হয়। এরপর বায়োমেট্রিক টেস্টের পর শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন গ্রাহ্য বা খারিজ করে কানাডার দূতাবাস।

শিক্ষার্থীদের নানা নথিপত্র খতিয়ে দেখলেও অফার লেটারটিতে বিশেষ দৃষ্টিপাত করা হয়নি বলে মনে করছেন এক পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দাবি, ‘ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হলেও আশ্চর্যের বিষয় যে একটি বিশেষ কলেজের থেকে এতগুলো অফার লেটার পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখল না কানাডীয় দূতাবাস।’

সূত্র: আনন্দবাজার

/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়