পুলিশই জনতার হাতে তুলে দিয়েছিল মণিপুরের ২ নারীকে
ভারতের মণিপুর রাজ্যে দুই আদিবাসী নারীকে নগ্ন করে ঘোরানোর ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। ওই নির্যাতিতাদের মধ্য়ে একজনের সঙ্গে কথা বলেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ওই নারী জানিয়েছেন, পুলিশই জনতার মধ্যে তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
মণিপুরে কুকি আদিবাসী নেতাদের ফোরাম (আইটিএলএফ) বুধবার জানায়, রাজধানী ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলায় গত ৪ মে দুই কুকি উপজাতি নারীকে নগ্ন করে গ্রামে ঘোরানো হয়। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুরুষরা ক্রমাগত দুই নারীকে হয়রানি ও শ্লীলতাহানি করছে। এসময় নারী দুজনকে অনুনয় বিনয় করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনার একদিন আগেই উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতি এবং কুকি উপজাতির মধ্যে তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবিতে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। ভুয়া একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে কুকিদের গ্রামে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই দুই নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সংঘর্ষের সময় প্রাণে বাঁচতে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই নারীদের এক জনের ভাইকে হত্যা করে হামলাকারীরা।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীদের এক জন জানিয়েছেন, আশ্রয় নেওয়ার জন্য় তারা জঙ্গলে চলে গিয়েছিলেন। পরে থউবল পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই সময় থানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার আগে জনতা তাদের আটকায়। এরপর পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
২০ বছর বয়সী ওই নারী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে পুলিশ আমাদের নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় জনতার মধ্য়ে আমাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশই আমাদের ওদের হাতে তুলে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজনকে খুন করল। আমাদের উপর অত্যাচার! এরপর সেখানে ফেলে রেখে দিল। আমরা কোনওরকমে পালিয়ে আসি।’
ঢাকা/শাহেদ