এশিয়ান মিত্রের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান এশিয়ান মিত্র হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া। তবে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার মিত্র দেশটির প্রধান আমদানিপণ্য- বিশেষ করে গাড়ি, কাঠ ও ওষুধসামগ্রীর ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদকে দায়ী করে বলেন যে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি অনুমোদন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত শুল্ক কমিয়ে দিলেও সিউল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যার ফলে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি বাধ্য হয়েছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট লি এবং আমি উভয় দেশের জন্য একটি চমৎকার চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম... কেন কোরিয়ান সংসদ এটি অনুমোদন করেনি?”
এদিকে ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ওয়াশিংটন থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জরুরি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সংকটের মূলে রয়েছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘোষিত একটি চুক্তি। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করবে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে এই চুক্তিটি আটকে আছে, কারণ সেখানে এটি ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
দেশটির বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের দাবি- বিশেষ করে যদি তা নগদে পরিশোধ করতে হয়- তাহলে দেশে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একে ১৯৯৭ সালের আর্থিক সংকটের সাথে তুলনা করেছেন, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আইএমএফ-এর কাছ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার বৃহত্তর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য কৌশলেরই অংশ। এই কৌশলে তিনি চড়া শুল্কের হুমকি দিয়ে বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের অনুকূলে শর্ত আদায় করে নেন।
একই ধরনের কৌশল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে, ইইউ যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই চুক্তিটি স্থগিত করে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা ট্রাম্পের ‘ক্রমাগত হুমকি’ এবং তার গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে।
ঢাকা/ফিরোজ