ঢাকা     সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৩ ১৪৩২ || ২৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্বস্তির মধ্যেই চীন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২০, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:২৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্বস্তির মধ্যেই চীন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ালো করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ মঙ্গলবার চীন সফরে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়ায় স্টারমার এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি এমন এক সময়ে এই সফরে যাচ্ছেন যখন ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তিন দিনের এই সফরে স্টারমারের সঙ্গে থাকছেন ডজন খানেক ব্যবসায়ী ও দুজন মন্ত্রী। বেইজিংয়ে চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাংহাই যাবেন এবং এরপর সংক্ষিপ্ত সফরে জাপানে যাবেন।

কিংস কলেজ লন্ডনের চীনা স্টাডিজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন রয়টার্সকে বলেন, এই সফরের প্রধান আলোচনার বিষয় হবে “যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের বর্তমান আচরণ এবং অবস্থান সম্পর্কে উভয় পক্ষ কী ভাবছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “বর্তমান পরিস্থিতির এক অদ্ভুত দিক হলো- এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মতো কিছু বৈশ্বিক ইস্যুতে লন্ডন সম্ভবত ওয়াশিংটনের চেয়ে বেইজিংয়ের বেশি ঘনিষ্ঠ।”

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই মাসের শুরুতে চীন সফর করে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেন। এরপরই চীন সুযোগ পায় ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য নীতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র যুক্তরাজ্যকে কাছে টানার।

কার্নির বেইজিং সফরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব কানাডীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে- যা কার্যত একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানায়, বেইজিং একটি ‘বহুমুখী বিশ্বের’ পক্ষে কথা বলে, তাই তারা দেশগুলোর জন্য এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে।

যুক্তরাজ্য চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক চায় যাতে স্টারমার জনসেবা ও অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে পারেন। তবে এই কৌশল ব্রিটিশ ও মার্কিন রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১২ মাসে চীন ছিল যুক্তরাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড (১৩৭ বিলিয়ন ডলার)।

তবে লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘চায়না স্ট্র্যাটেজিক রিস্কস ইনস্টিটিউট’-এর পলিসি ডিরেক্টর স্যাম গুডম্যান বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা থেকে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত খুব সামান্যই অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে। তার মতে, যুক্তরাজ্যে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাত্র ০.২ শতাংশ আসে চীন থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া গত এক বছরে চীনের বাজারে ব্রিটিশ পণ্য ও পরিষেবার অংশীদারিত্বও কমেছে।

স্টারমারের এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তার সরকার লন্ডনের কেন্দ্রে চীনের একটি বিশাল দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। অনেক রাজনীতিকের অভিযোগ ছিল যে, এই নতুন ভবনটির মাধ্যমে চীনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করা সহজ হবে, কিন্তু স্টারমার সেই আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেন।

গত মাসে স্টারমার এই সফরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন যে, চীন ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হলেও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা জাতীয় স্বার্থেরই অনুকূল।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়