ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় ‘নৌবহর’ দিয়ে ইরানকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের কাছে যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের একটি ‘বিশাল নৌবহর’ মোতায়েন করেছে। তবে এই সামরিক তৎপরতার মধ্যেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তেহরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন, তবে ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (২৬) জানুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি এখনো ‘অস্থির’ অবস্থায় রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, “ইরানের ঠিক পাশেই আমাদের একটি বিশাল নৌবহর রয়েছে। এটি ভেনিজুয়েলার কাছে মোতায়েন করা বহরের চেয়েও বড়।” সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের লক্ষ্যে দেশটির উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর যে অবস্থান ছিল, সেটির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প জানান, তেহরান একটি চুক্তির জন্য আলোচনা করতে আগ্রহী। তিনি দাবি করেন, “তারা অসংখ্যবার ফোন করেছে। তারা কথা বলতে চায়।”
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির মূল কেন্দ্রে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যানুসারে, মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী এই রণতরীটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত শনিবার ইসরায়েল সফর করে যৌথ সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর গত শনিবার সতর্ক করে বলেন, আইআরজিসি দেশ রক্ষায় ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত’ এবং ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে বসে আছে’। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার ফলাফল খুবই ‘ভয়াবহ’ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তেহরান ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
আরটির প্রতিবেদন বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী মার্কিন পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে বিভক্ত। শোনা যাচ্ছে, কিছু কর্মকর্তা তেহরানকে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের ঘোষিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা কার্যকরের পক্ষে মত দিচ্ছেন। অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে ইরানে বোমা হামলা চালালে আদতে কী কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে এমন একটি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে যেখানে তেহরানকে তাদের সমৃদ্ধ সব ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ সীমিত করতে হবে, আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং স্বাধীনভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করতে হবে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।
ঢাকা/ফিরোজ