ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩২ || ৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারতে সহপাঠীদের নামাজে পাহারা দিল হিন্দু শিক্ষার্থীরা

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৮, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতে সহপাঠীদের নামাজে পাহারা দিল হিন্দু শিক্ষার্থীরা

নামাজ পড়ছেন লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্ররা আর তাদের নিরাপত্তা দিতে মানববন্ধন করে ঘিরে রেখেছেন হিন্দু সহপাঠীরা। সম্প্রতি ভারতের লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ধারণ করা এই দৃশ্য উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

জানা যায়, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিবাদের এই দৃশ্যটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো লাল বারাদরি মসজিদের কমপ্লেক্সের।

আরো পড়ুন:

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদটি তালাবদ্ধ করে বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি বিপজ্জনক এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ছাত্রদের দাবি, রমজানের মাসে মুসলিম ছাত্রদের বিরুদ্ধে কার্যত একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাই শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত বিক্ষোভ করছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ভবনের ভেতরে অবস্থিত মসজিদটি প্রশাসন কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছে। রমজান মাসে গেট বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনি।

গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেয়। বিক্ষোভের মাঝেই নামাজের সময় হলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরেই নামাজ আদায় করার সিদ্ধান্ত নেন।  এসময় পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত থাকায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। মুসলিম সহপাঠীরা যখন নামাজে মগ্ন, তখন তাদের চারপাশে গোল হয়ে মানববন্ধন তৈরি করেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং প্রার্থনার পরিবেশ রক্ষায় তারা ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, লাল বারাদরি ভবনটি জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সেখানে অবস্থিত ব্যাংক, ক্লাব এবং ক্যান্টিনও খালি করতে হবে। ভবনের জরাজীর্ণ মসজিদটি তালাবদ্ধ করা হয়েছে কারণ সেখানে প্রবেশ করা নিরাপদ নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বারাদরির ভেতরে অন্যান্য কার্যক্রমও চলছিল, যার ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। 

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান ইমরান প্রতাপগড়ী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে লেখেন: “লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন লাল বারাদরি মসজিদে শিক্ষার্থীরা নামাজ পড়ছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক দশকের ঐতিহ্যের অংশ। গত রাত থেকে শিক্ষার্থীরা সেখানে বিক্ষোভ করছে কারণ শিক্ষার্থীদের না জানিয়েই মসজিদের দরজা ঝালাই করে সিল করে দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা কী বার্তা দিতে চাইছে তা জানার মতো সংবেদনশীলতাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। গত রাতে ভিডিও কলে আমি প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে লাল বারাদরি শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ঘৃণার পরীক্ষাগারে পরিণত করা উচিত নয়।”

প্রসঙ্গত, লাল বারাদরি কমপ্লেক্সটি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যেই অবস্থিত। প্রায় ২০০ বছরের এই ঐতিহাসিক ভবনটি ১৮০০ সালে নবাব নাসিরুদ্দিন হায়দার নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (এএসআই) সংরক্ষিত ভবনের আওতায় আছে।

ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়