চূড়ান্ত চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়নি-দাবি ইরানের
ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানের জন্য একটি চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনার দাবি করার পর শুক্রবার (১২ জুন) তেহরান এ কথা বলেছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার প্রথমে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলা চালাবে। কিন্তু পরে তিনি তিনি জানান, হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। কারণ আলোচকরা ইরানের সঙ্গে ‘এইমাত্র একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি ‘দলিল চূড়ান্তকরণের ওপর নির্ভরশীল, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত’ এবং ইউরোপে ‘সম্ভবত’ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে।
কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তির খবরটি ‘অনুমানমূলক’ এবং ‘কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।’
ট্রাম্প এর আগেও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা আর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরে ইসরায়েল ও মার্কিন-মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়—যা বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেমে থেমে গোলাগুলি বিনিময় করেছে, যার মধ্যে এই সপ্তাহে দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলাও অন্তর্ভুক্ত। একই সময়ে, ট্রাম্পও বারবার ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৯ ডলারে (৬৬ পাউন্ড) নেমে আসে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে যে ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, যা এই চুক্তিটি পাওয়ার জন্য আমাদের এত কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল। সুতরাং, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়া মাত্রই’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
ঢাকা/শাহেদ
দেশের সব মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী