ঢাকা     বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩৩ || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কতগুলো জাহাজ চলাচল করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২২:৪১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কতগুলো জাহাজ চলাচল করেছে

হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অপেক্ষায় থাকা ট্যাঙ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ অবরোধের মধ্যেই আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) অন্তত তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা এএসইজি ও কেপলার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। 

তথ্যানুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘পিস গালফ’ ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশিত নতুন রুট ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা ‘রিচ স্টারি’ এবং ‘এলপিস’ নামক দুটি জাহাজও নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। যেহেতু এই তিনটি জাহাজ ইরানি কোনো বন্দরে যাচ্ছিল না, তাই মার্কিন অবরোধের আওতায় তারা পড়েনি।

আরো পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ কার্যকর শুরু করেছে। এর ফলে কোনো দেশই ইরানের বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারছে না। অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে। বর্তমানে লারক দ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণ দিক দিয়ে একটি বিশেষ করিডোর ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান।

হরমুজ প্রণালির শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এই রুটের বর্তমান পরিস্থিত খুবই উদ্বেগজনক। যুদ্ধের আগে যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৩ দিনে মাত্র ২৭৯টি জাহাজ চলাচল করেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মাত্র ৪৫টি জাহাজ এই প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে পেরেছে।

কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায়। এছাড়া ওমান, কাতার, ইরাক এবং সৌদি আরবের জলসীমায়ও জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

যুদ্ধের আগে জাহাজগুলো নির্দিষ্ট দুটি লেন ব্যবহার করত। গত ২ মার্চ ইরানের আইআরজিসি এই প্রণালি ‘বন্ধ’ ঘোষণা করে এবং মাইন থাকার আশঙ্কায় নতুন ম্যাপ অনুযায়ী চলাচলের নির্দেশ দেয়। জাহাজগুলোকে লারক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের ফলে নতুন উত্তেজনার পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েক শ’ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে, যা ইতিহাসের সবথেকে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়