ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২২ ১৪৩৩ || ১৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হরমুজে ইরানের ৭টি দ্রুতগতির নৌকা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ৫ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫১, ৫ মে ২০২৬
হরমুজে ইরানের ৭টি দ্রুতগতির নৌকা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি ‘দ্রুতগতির নৌকা’ ধ্বংস করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে অবরুদ্ধ এই জলপথে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করার পর এই হামলার ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসির। 

বিবিসিকে শিপিং কোম্পানি মের্সক জানিয়েছে, তাদের মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি পাহারায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে ওই এলাকায় আটকা পড়ে ছিল।

আরো পড়ুন:

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, নৌকাগুলো ধ্বংস করতে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সাতটি দ্রুতগতির নৌকা ধ্বংস করেছি। ওদের (ইরানের) আর এটাই অবশিষ্ট ছিল।”

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী কোনো সামরিক নৌকায় নয়, বরং দুটি বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করেছে।

এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে, তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি অস্বীকার করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।”

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে আছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।

এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে এরপরও খুব কম জাহাজই এই প্রণালি পার হতে পেরেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

গত রবিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে সহায়তা করবে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।

ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘মানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের নিরপরাধ জাহাজগুলোকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জাহাজ উদ্ধারের এই ‘মানবিক প্রক্রিয়ায়’ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়