ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিএনএনের প্রতিবেদন

যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৪:১৩, ৯ মে ২০২৬
যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন খামেনি

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গোয়েন্দা তথ্যের সাথে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার (৯ মে) সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভক্ত শাসনব্যবস্থার মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্তৃত্ব এখনো অস্পষ্ট। তবে মোজতবা খামেনি সম্ভবত যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের আলোচনা পরিচালনায় নির্দেশনা দিতে সাহায্য করছেন।

আরো পড়ুন:

যুদ্ধের শুরুতে এক হামলায় মোজতবার বাবা এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হন। পরবর্তী হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার স্বাস্থ্য এবং ইরানি নেতৃত্বের কাঠামোতে তার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। 

সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ যুদ্ধবিরতি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইরান মার্কিন বোমাবর্ষণের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির আরো কয়েক মাস মার্কিন অবরোধ সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে।

বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি। তাই মোজতবা খামেনির কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তার একটি কারণ হলো, খামেনি যোগাযোগের জন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে তিনি কেবল তাদের সাথেই কথা বলছেন যারা সশরীরে তার সাথে দেখা করতে পারেন অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে বার্তা পাঠাচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরো জানায়, খামেনি তার আঘাতের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তার আঘাতের মধ্যে রয়েছে শরীরের একপাশে মুখ, হাত, ধড় ও পায়ে গুরুতর পোড়া ক্ষত।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি শুক্রবার বলেছেন, খামেনি তার আঘাত থেকে সেরে উঠছেন এবং ‘এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’ খামেনির পা এবং কোমরের নিচের অংশে সামান্য আঘাত লেগেছে এবং ‘একটি ছোট শ্র্যাপনেলের টুকরো তার কানের পেছনে লেগেছে’, তবে ক্ষতগুলো সেরে উঠছে।

হোসেইনি ইরানের এক জনসমাবেশে বলেন, “আল্লাহর রহমতে, তিনি ভালো আছেন। শত্রু নানা রকম গুজব ও মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছে। তারা তাকে দেখতে ও খুঁজে বের করতে চায়, কিন্তু মানুষের উচিত ধৈর্য ধরা এবং তাড়াহুড়ো না করা। সঠিক সময়ে তিনি তোমাদের সাথে কথা বলবেন।”

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। 

এটিই ছিল ইরানের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের খবর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, খামেনির অবস্থা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা যা জানেন, তা তার সঙ্গে যোগাযোগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই জানা গেছে। তবে, গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে এই প্রশ্ন উঠেছে যে, ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর কেউ কেউ নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য খামেনির কর্তৃত্বকে কাজে লাগাতে তার সান্নিধ্য পাওয়ার দাবি করছেন কি না।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুদ্ধের কূটনৈতিক অবসানের জন্য ইরানের আলোচনা কৌশল প্রণয়নে খামেনি জড়িত আছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, এমন প্রমাণ রয়েছে যে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বেশ দূরে রয়েছেন এবং কেবল অনিয়মিতভাবেই তার সাথে যোগাযোগ করা যায়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেচেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আলোচনা পরিচালনায় সাহায্য করার মতো অবস্থানে থাকুন বা না থাকুন, ‘ব্যবস্থাটি তাকে আলোচনার কৌশলের জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক সিদ্ধান্তগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার জন্য ব্যবহার করছে।’

তিনি আরো বলেনম “ব্যবস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে মোজতবার সম্পৃক্ততাকে তুলে ধরে, কারণ এটি অভ্যন্তরীণ সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে… তার বাবার মতো নয়, যিনি নিয়মিত প্রকাশ্যে এসে আলোচনার অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতেন। মোজতবা এখন অনুপস্থিত, তাই তার ওপর মতামত চাপিয়ে দেওয়াটা ইরানি আলোচকদের জন্য সমালোচনা থেকে নিজেদের রক্ষা করার একটি ভালো কৌশল।”

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়