ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তির কারণ স্পষ্ট করা উচিত’

নিজস্ব সংবাদদাতা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪০, ৯ মে ২০২৬  
‘সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তির কারণ স্পষ্ট করা উচিত’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেছেন, জুলাই সনদের যদি আধা প্রশ্নে আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্ট করে বলা দরকার—এতে দেশের কী ক্ষতি হবে, আর না মানলে কী সমস্যা হবে। কেবল দলীয় অহংকার বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ঠিক হবে না। জনগণ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার পথে আসতে হবে।

একটি রাজনৈতিক দল দাবি করছে—তারা তখন রাজি না হলে নির্বাচন হতে দেওয়া হতো না। এ বিষয়ে তিনি বিতর্কে না গেলেও বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের কোন অংশে আপত্তি থাকলে তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে “গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার: সংবিধানের সংস্কার, গণভোট—বৈধতার ভিত্তি জনগণ না সংবিধান” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংস্কার প্রশ্নে এখনো প্রয়োজনীয় ঐকমত্য তৈরি হয়নি।”

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে এমন মূল্য দিতে হয়েছে, যা একাত্তরের পর আর কখনো দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সব শ্রেণির মানুষ জীবন দিয়েছেন একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার আশায়।”

তিনি বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, রক্তপাত থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি পথ বের হবে, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো সংকট মোকাবিলায় সহিংসতার প্রয়োজন হবে না।”

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সবার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে আরও উন্নত ও গণতান্ত্রিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। তবে এখন সেই আলোচনা প্রত্যাশিতভাবে এগোচ্ছে না।” 

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “মানুষ জীবন দিয়েছে দেশের ভালোর জন্য। তাই জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সমঝোতায় আসতে হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং একটি কার্যকর সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংকট এড়ানোর পথ তৈরি হবে।

ঢাকা/নজরুল/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়