RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৬ ১৪২৭ ||  ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান আর নেই

নিজস্ব  প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ২৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২৩:৩৪, ২৯ নভেম্বর ২০২০
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান আর নেই

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (২৯ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান তিনি।

মৃত্যুর বিষয়টি রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সনাউল হক।

সানাউল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার হান্নান খানের জ্বর আসে। ওইদিনই করোনাপরীক্ষা করালে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। শুক্রবার তিনি রাজধানীর সিএমএমএইচে ভর্তি হন। পরে রোববার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানা যান।

সানাউল হক আরও বলেন, মাস খানেক আগে হান্নান খান ব্রেইন স্ট্রোক করেছিলেন। তবে সেটা থেকে সেরে উঠে বাসায় বিশ্রামেই ছিলেন।

সানাউল হক বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- আব্দুল হান্নান খানের ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়েছিল।

নেত্রকোনার পূর্বধলা খলিশাউর খান পাড়ায় জন্ম নেওয়া আবদুল হান্নান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে এম এ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।একই বছর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত কনভোকেশনে মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বীকৃতির ঘটনায় ছয় মাস জেল খাটেন পুলিশের সাবেক এ কর্মকর্তা।

অধ্যয়ন শেষে ১৯৬৫ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া কলেজ, মৌলভীবাজার কলেজ, ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ ও জামালপরের আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যাপনা করেন।

১৯৭১ সালে ১১ নম্বর সেক্টরের ঢালু সাব সেক্টরে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বিসিএস প্রথম ব্যাচে পুলিশ বিভাগে এএসপি হিসাবে যোগদান করেন আবদুল হান্নান খান।

এরপর ১৯৯৬ সালে 'বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা'র প্রধান তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। তখন পলাতক আসামি মেজর হুদাকে ব্যাংকক থেকে আনতেও সরকারিভাবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এছাড়া জেল হত্যা মামলা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলারও তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি।

২০০০ সালে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে ২০১১ সালে নিয়োগ পেয়ে আইজিপি পদ মর্যাদায় সমন্বয়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মেহেদী/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়