ঢাকা     সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি ছিল আমিনুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ৩ জুলাই ২০২২  
ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি ছিল আমিনুল

কেএম আমিনুল হক ওরফে রজব আলী

যুদ্ধাপরাধের দায়ের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কেএম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সে পাকিস্তানি ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল।

রোববার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, শনিবার (২ জুলাই) রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করে।

আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ সাতটি অভিযোগ ছিল। অভিযোগের তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ২০১৬ সালের ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল আমিনুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর আমিনুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

আমিনুল  মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকায় নিরীহ মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করে। সে ভৈরবে পাকিস্তানি ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আমিনুল মুক্তিযুদ্ধের সময় ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য এলাকায় ‘আল বদর’ বাহিনী গঠন করে এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

র‌্যাব জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমিনুল পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হবিগঞ্জের লাখাই থানার কৃষ্ণপুর, গদাইনগর ও চন্ডিপুর গ্রাম, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার সদানগর ও সাবিয়ানগর গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক এলাকায় গণহত্যা, লুটপাট, ঘরবাড়ি লুণ্ঠন ও নির্যাতন করে। এছাড়া, স্বাধীনতাকামী নিরীহ বাঙালিদের অপহরণ করে রাজাকার ক্যাম্পের টর্চার সেলে নির্যাতন করে হত্যা করে। আমিনুল ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলোতে তার ৪০ বছর সাজা হয়। কিন্তু, মাত্র ১০ বছর সাজা ভোগ করে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় ১৯৮১ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পায় সে। ১৯৮২ সালে জেল থেকে বের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ও বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে যায় আমিনুল। ১৯৯৭ সালে সে নিজ এলাকা ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। এ সময় সে গ্রেপ্তার এড়াতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করে। আত্মগোপনে থাকাকালে সে সাধারণত জনসমাগম স্থান, সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলত।

আমিনুল ‘আমি আলবদর বলছি’ ও ‘দুই পলাশী দুই মীরজাফর’ নামে দুটি বই প্রকাশ করে। যেখানে সে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের শোকাবহ ১৫ আগস্টের দিনসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আত্মস্বীকৃতি হিসেবে নিজেকে ‘আলবদর কমান্ডার’ দাবি করে। ২০১৪ সালে তার প্রকাশিত ‘দুই পলাশী দুই মীরজাফর’ বইটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশ করায় সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।

মাকসুদ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়