ঢাকা     সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৮ ১৪২৯ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

টেলিটকের সাবেক ব্যবস্থাপক জোবায়েরের ১২ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫০, ১৪ আগস্ট ২০২২  
টেলিটকের সাবেক ব্যবস্থাপক জোবায়েরের ১২ বছর কারাদণ্ড

দুদকের দায়ের করা মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক (চাকরিচ্যুত) শাহ মো. জোবায়েরকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৮ এর বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি শাহ মো. জোবায়েরকে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শাহ মো. জোবায়ের পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রহমান ভূঁইয়া।

জানা যায়, শাহ মো. জোবায়ের টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বেতনভাতা বাবদ ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উপার্জন করেন। অপরদিকে রাজধানীর উত্তরার এইচএসবি শাখায় সঞ্চয়ী হিসাবে বেতন বহির্ভূত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা করে এফডিআর করেন। এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখায় সঞ্চয়ী হিসাবে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা করেন। যার মধ্যে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার এফডিআর ও ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৩৭ টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করেন। তাছাড়াও আসামি ব্র্যাক ব্যাংক নর্থ গুলশান শাখায় সঞ্চয়ী হিসাবে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন করেন। বেসিক ব্যাংক গুলশান শাখার হিসাবে আসামি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা ও উত্তোলন করেন। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক মিরপুর-১ শাখায় দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৫ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক গুলশান শাখায় একশ তিন দশমিক ০১ টাকা জমা ও উত্তোলন করেন। এভাবে জোবায়ের বেতন-ভাতাদি বাদে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সর্বমোট ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৬৮৭ টাকা অর্জন  এবং অন্যত্র স্থানান্তর করেন। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মধ্যে পড়ে।

এ ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন শাহ মো. জোবায়েরকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৮ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান। ২০১৯ সালের ১৩ জুন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

ঢাকা/মামুন/এনএইচ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়