ঢাকা     রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

বৃহস্পতিবার যেমন ছিল ঢাকার আদালতপাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ৮ ডিসেম্বর ২০২২  
বৃহস্পতিবার যেমন ছিল ঢাকার আদালতপাড়া

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনীতি। এর রেশ পড়েছে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণেও। এদিকে, বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসতে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ২টার পর থেকে তারা সিএমএম আদালতের সামনে অবস্থান নেন। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরাও ছিলেন সরব। তারাও সিএমএম আদালতের সামনে অবস্থান নেন। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুই দলের আইনজীবীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

বিকেল ৫টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আর কয়েকশ নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহিদুল আলম ৪৫০ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের সাত দিনের রিমান্ড এবং ৪৩৫ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সন্ধ্যার দিকে রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে শুনানি হয়। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপর আসামিদের পক্ষেও জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানিকালে কয়েক দফা তর্কে জড়ান আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত ৪৩৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেলিম রেজা হাবিব নামের এক আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। অপর ১৪ আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান ও আব্দুল কাদের জুয়েলের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা নাশকতার দুই মামলায় হাজিরা দিতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পাঁচ নেতা। অন্য আসামিরা হলেন—দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাদের আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে পড়ে আদালতপাড়া।

এদিন আদালতপাড়ায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল র‌্যাব, পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রস্তুত ছিল এসব বাহিনী। আদালতপাড়ায় চলাচলও সীমিত করা হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালতের আশপাশে অবস্থান নেন অনেকটা গোপনীয়তার সাথেই।

মামুন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়