ঢাকা     শনিবার   ২২ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩১

ফ্রিল্যান্সারদের ডলার যাচ্ছে বিটকয়েনে 

ব্যবসার আড়ালে ভয়ানক অনলাইন প্রতারণা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ১৪ মে ২০২৪  
ব্যবসার আড়ালে ভয়ানক অনলাইন প্রতারণা

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বিপথে নিচ্ছে সাইফুল ইসলাম নামের এক প্রতারক। দেশে নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়ার অন্যতম কারিগর বলা হয় তাকে। অথচ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে এই অপরাধী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী অনেকেই বলছেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এই অপরাধী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও ফেসবুকে ট্রল করে এবং তা ছড়ায়। অবৈধভাবে অনলাইন জুয়ার ব্যবসায় দুবাইয়েও রয়েছে তার গ্যাং।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনও পালিয়ে যাওয়ার আগে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসতে পারে দেশে এই অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ তথ্য।

ঢাকার গুলশানে অফিস খুলে এবং নিজে ইমর্পোটার পরিচয়ের আড়ালে শত শত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সারদের ম্যাসেজে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিটকয়েন কেনায় সাইফুল। এরপর নিজেকে ব্যবসায়ী দেখিয়ে কিছু নগদ দিয়ে ডলার কিনে বাকি অর্থ বিভিন্ন অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রাতে বিনিয়োগ করায়। আর অধিক লাভের আশায় তার ফাঁদে পড়ে অনেকে পুঁজি হারিয়ে এখন অসহায়।

রফিক মোহাম্মদ ভূঁইয়া নামের একজন অনলাইন ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে কিছু ডলার উপার্জন করেন। সাইফুল তাকে নগদ ৩ লাখ লাভ দেখিয়ে বিদেশি একটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে দেয়। এরপর দুই মাস পর বিটকয়েন থেকে টাকা ফেরত দেবে জানায়। এখন টাকা চাইতে গেলে হুমকি দিচ্ছে। সাইফুলের এমন অসংখ্য প্রতারণার খবর বেরিয়ে আসছে। অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসায় সঙ্গেও জড়িত বলে এই সাইফুলের নাম শোনা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাইফুলকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে এই হুন্ডি ব্যবসায়।

অভি‌যো‌গের সত‌্যতা জান‌তে সাইফুলের মু‌ঠো‌ফো‌নে বেশ ক‌য়েকবার ফোন দিলেও রি‌সিভ না করায় তার সঙ্গে যোগা‌যোগ করা সম্ভব হয়‌নি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম ইউনিটের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার নাজমুল ইসলাম ব‌লেন, অনলাইন প্রতারণা, জুয়ার বিরু‌দ্ধে আমা‌দের অভিযান অব‌্যাহত আছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অনেক অপকর্ম ও প্রতারণা করা হচ্ছে। 

তি‌নি ব‌লেন, অনলাইন জুয়া একদম নিষিদ্ধ। দেশের আইন মোতাবেক আমরা এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান করেছি। আমাদের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যে কাউকেই আইনের আওতায় আনা যাবে। মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক জালিয়াতি কারণে দেশের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এতে দেশের রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়ছে। তাই এদের ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীরা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করার পাশাপাশি সিটিটিসি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

নাজমুল ইসলাম আরও বলেন, বিটিআরসির সহযোগিতা এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি অনলাইন জুয়ার সাইট বন্ধ করা হয়েছে। আর শুধুমাত্র ডিএমপি থে‌কেই এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত অর্ধশত জুয়ারি ও মানিলন্ডারিং’র সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা/হাসান/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়