হাদি হত্যাকাণ্ড: আলোচনায় ফয়সালের ভিডিও বার্তা
ছবি সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিও বার্তার পর। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ নিশ্চিত করলেও, ফয়সালের বক্তব্য ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক আরো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তদন্তকারি সংস্থা বলছে, তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদই হাদিকে গুলি করে। ফয়সাল প্রধান সন্দেহভাজন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “মামলাটির গুরুত্ব বুঝে গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে জানিয়েছি। আরো আপডেট হলে আমরা গণমাধ্যম ডেকে বিস্তারিত জানাব। তবে এতটুকুই বলতে পারি এ ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীকে কে, কি কারণে ঘটেছে, মাস্টারমাইন্ড সবকিছু বের করে আনব।”
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ভিডিওতে বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। সেগুলো সংগ্রহ করে প্রযুক্তির নানা সহযোগিতায় আসলেই কি এটা ফয়সালের ভিডিও কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ফয়সালের বাবা-মা-স্ত্রী সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে দুজন দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি ফয়সালের ফেলে যাওয়া দুটি পিস্তল, গুলিসহ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
অন্যদিকে ভিডিওতে ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে আছেন। কিন্তু ভিডিও ছাড়া তার অবস্থান প্রমাণে কোনো তথ্য নেই। লোকেশন ডেটা নেই, পাসপোর্টের সিল নেই। হত্যার সময় মোটরসাইকেলে না থাকার যে দাবি তিনি করেছেন, সেটিকে ‘দ্য ডিসেন্ট’ সরাসরি মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে।
আরেকটি বিভ্রান্তিকর দিক হলো পলাতকদের অবস্থান। একদিকে বলা হচ্ছে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গেছে। অন্যদিকে ভারতে তাদের সহযোগিতাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমআর নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি কালভার্ট রোডে রিকশায় ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক), পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং সবশেষ তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঢাকা/এমআর/এসবি