ঢাকা     বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২ || ১৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রকাশিত হয়েছে দ্রাবিড় সৈকতের ‘কুত্রাপি অবিনশ্বর’

ডেস্ক নিউজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২২, ৪ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১২:৩৪, ৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশিত হয়েছে দ্রাবিড় সৈকতের ‘কুত্রাপি অবিনশ্বর’

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬- এ প্রকাশিত হয়েছে দ্রাবিড় সৈকতের কুত্রাপি সিরিজের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কুত্রাপি অবিনশ্বর’। বইটি প্রকাশ করেছে পাঠক সমাবেশ। এটির প্রচ্ছদ করেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল। ‘কুত্রাপি অবিনমশ্বর’ পাণ্ডুলিপি থেকে কয়েকটি ‘কুত্রাপি’ রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

৫০৭ 
মূর্খের পাঁজরে পাঁজরে থাকে লোভ আর লেজুড়ের লোম
খেজুরের ওম থেকে থলি থলথল
অচল দুনিয়া তার তোষামোদে তক্ষশীলার মহা পণ্ডিত 
পক্ষ গিলার কোনো দিনক্ষণ দুশমন দৈত্য দানব নেই নাগরের
যা ঘরের যা গোয়ালের
যা পরের যা বোয়ালের বিবসন হয়ে তার পিছু নেও
কিছু নেও কিছু ছাড়ো এমন বোকা নয় ধান্দায় মান্দার পুত
গান্ধারে সেলুকাস এমন কিছুই কি দেখেছিলো আলেকজান্ডার?
ভাণ্ডার খালি হোক তার পেটে চর্বির বিস্তারে আমরা মাপতে বসি গ্রীষ্ম বর্ষা আর কনকনে শীত।

৫০৯
গোল গোল গর্তের গুতা খেয়ে 
জুতা পায়ে কই যাও? লুঙ্গির বাচ্চারা দেখো টাই দেখে চমকায়
কম খায়, তবু স্ট্যাটাসের টাস্কি খাওয়া ট্যাংকিটা ভরপুর ভুরভুরে গন্ধ ছড়ায়
ব্যাটাদের হেচকি ওঠে, আহা ইংলিশ কেতা কায়দায় হবো সারভেন্ট
কার প্যান্ট খুলে যায় তলানীর দিকে, পিঠে কার দগদগে ক্ষত দেখে মাছিরাও করে বৈঠক
বই ছক কষে পড়ো
খই ঢক করে গিলে নেবার বস্তু ত নয়, তার পিছে ধান কৃষি কাপ্তান বহুবিধ বিদ্যার বোধ
কান ঋষি রপ্তানি করা মাল, মাগনা ফিরিস্তি পাবা বিদেশের জৌলুস জেনিফার জুলেখা
গুলে খা,
ভুলে যা নিজস্ব সত্তার শতকরা, বৃষ্টির জল পড়ে জ¦লে যাক মন-মজ্জ্বার পুরাতন প্রতিশোধ।

৫১১
সকল নাটক মঞ্চে ওঠে না
ফোটে না সকল ধানে খই, খচখচ করে কিছু বালি বাদ্যকরের
নকল কানে সই প্রেমালাপে চাক চাক মধু হুল ফোটানোর নেই শক্তি!
ধকল প্রাণে গেঁথে গেলে চেহারায় থাকে তার ছাপ
যে হারায় পাকে তার ভাব সঞ্চারি পন্থায় বিচিত্র পথের পুরাকীর্তির মতো পোটলায়
জোট হায় ভেঙে যায় মানুষের মনিটরে অচেনার অবসাদ
ধনী ঘরে জমিয়ে রাখে ধান প্রজ্ঞার থালা শূন্য ও শিকারের ফালি
পুণ্যের অধিকার কালিঝুলি মাখা
বাঁকা পথ, সকলে বহন করে নদী তবু পাড় জুড়ে পাকুড়ের আনন্দ জোটে না।

৫১৭ 
কবিতা সহজ হলে ভাল, তরল হলে আহা উহু শিৎকারে ভরে যায় ডালা
গরল থলে যাহা রেখেছেন কোলের ভিতর তাহারে নামিয়ে দেখেন কতখানি জমে গেছে গাদ
জামদানি কমে বেচে দাঁদ হতে পারে তার প্ররোচনা গিলে
দাম জানি নেমে যাবে জনপ্রিয়তার
খাম খানি ছোট হবে, নাম যশ হাততালি কালিঝুলি মেখে দেবে পদবীর পাখনার নিচে
ডাল মাখনার পিছে ছুটে যারা হয়রান তারে বলি সোনাচান
সোনাধান গোলায় তোলার কিছুতো খাটুনি আছে, একেবারে ফাঁকতালে আর কতো পাবো?
ভাবো—
মগজ ঘুরিয়ে দেখো পৃথিবীর সুগন্ধী সুধার আছে বহু রূপভেদ
সন্ধি ক্ষুধার সাথে গোলমাল হয়ে গেলে সৃজন খামারে দাও জং ধরা মস্তক তালা। 

৫১৮
দেশ কই থাকে?
রেশ বই পড়ে যেটুকু জোগাড় হয় কেবলি প্রতীক
গতিকে গমন ভেবে লতিকেই ভেবে নেই কচুর বাগান
প্রচুর শ্লোগান শুনি গলা ছিড়ে বের হয় দেশাত্মবোধের ফাঁকা বুলি
চাকাগুলি চলে কোন দিকে? ড্রাইভার জানে কি যাত্রীর মন?
খাইবার ভানে সব বিষ্ঠা ও বিবমিষা
জিবও দিশা হারিয়ে ফেলেছে বহুকাল বিপ্লব বিপ্লুত পাললিক
ঝালও ঠিক জমে না এখন
যখন নিজেকেই পাচ্ছো না খুঁজে তখনই দেশের নামে ঢাকছো মাছের মাথা সকরুণ শাকে।

৫১৯
জনতা জোয়ার বোঝে, রাখেনা তার নীচে কুমিরের খোঁজ
ঝাঁকে না থাকলে তারে কালিঝুলি মাখিয়ে দেয় ভৌতিক অবয়ব
চৌদিকে নব রব ওঠে বদলাও পাল্টায়ে ফেলো
বদরাও খালের ভাও বুঝে বড়শিতে গেঁথে দেয় ব্যাঙ
পেতে রাখা ঠ্যাংগুলো হাতুড়ির মতো করে গমগম
ছাতু ক্ষীর যতো ঘরে কমকম জমা থাকে অর্ধাহারি
পর্দা তারই যায় ছিড়ে 
হায় ভীড়ের গল্পগুলো এমনই ইতিহাস লিখে রাখে!
তীরের অল্প চুলো জ্বলে টিমটিমে জানের জুয়ায়
বানের ধুঁয়ায় যারা আগুন আগুন বলে চিৎকারে চমকাও
শীৎকারে দমটাও শুনতে পাবে না অশুভ আততায়ীর আচমকা অনাহুত ভীড়ে

৫২০ 
উদ্ভট চাওয়াগুলো দেখি
‘একি অপরূপ রূপে মা তোমার’ পোলাপানে মরে যায় মৃত্যুর আগে 
গোলা ধানে ভরিবার ছলে তুলা কানে গুজে রাখে গণ্ডগোলে
ভণ্ড গোলের পরে রেফারির বাঁশি নিয়ে গ্যালারি গোয়াল
স্যালারি জোয়াল পড়ে চাকরির গরু
চ্যালারই চোয়াল বড়, লম্বা গলায় তার ঝুলে থাকে পেট, পুথিগত বিদ্যার বেসামাল বোটা
তলায় তক্তা নেই চোতরা পাতার চুলকানি চৌকশ
ধুতরা দাতার বেশে ঘোরে ঘাড়েগর্দানে তার বুদ্ধি বিকাশ
শুদ্ধি নিকাশ হলে অতিলৌকিক জনতার জলভাতে নেমে আসে অগণিত নেকি।

৫২৩
হুজুক বারবার আসে, আসতেই থাকে
সুযোগ যার পাশে গোট মেরে বসে যায় তারাই সেয়ানা মাল মুদিত নয়ন
উদিত শয়ন থেকে হাই তোলে জানালায় জয়তুন তেল
কয় গুন সেল হলে লাভ হয়?
ভয় তুণ থেকে ছুটে গেলে তীরের মতো গাঁথে লক্ষ্যের লাড়ু
পক্ষের ঝাড়ুটা ধেই ধেই নাচে যেনো দিব্যি দিনার
কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারি আরো যায় চেপে
ফেঁপে ওঠার সময়ে কেউ সুঁইয়ের নন্দন পড়ো
ক্রন্দনে কাজ নেই, সভ্যতার নাম করে এইসব পৃথিবীর আদিম বয়ন।

৫২৪ 
‘আত্মনং বিদ্ধি’ বলে লোকে
ভাত তো সমৃদ্ধি বলে শোকে
তোকে বলেছি টাকা পয়সা নয়, কাকা যা কয় তা নয়, মানুষের রূপটা আলাদা
যা গাধারাও বোঝে তাতে চৌকষ চিলেদের পোষে না
বৌ রস দিলে ঢের বসে না মন বিষয়ে বিতৃষ্ণা বিশদ বিলোপন হয়
ছিলো পণ জয় করবার লোভ হিংসার ভরা থলি
বলি, এবেলা অধ্যয়নে আসো
বদ চয়নে কাশো কেনো অহেতুক ভাসমান চেচুয়ার বিল?
যে ঠুয়ার কিল খেয়ে হয়ে গেছো বাঁকা
চাকা লাগিয়ে তারে চালাতে লাগে রাজপথ, তোর পায়ে লেগে আছে আন্ধার গলি।

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়