রাজধানীতে মুছাব্বির হত্যা: তদন্তে গুরুত্ব যেসব বিষয়ে
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির। ফাইল ফটো।
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও জোর তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা রয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে প্রতিপক্ষের শত্রুতা- সব বিষয় মাথায় নিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, “ঘটনার পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু নিয়েই আমরা তদন্ত করছি। কী কারণে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা অনেক কিছুই মাথায় নিয়ে তদন্ত করছি।”
পুলিশের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সময় যেসব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হয় এই ঘটনাতেও তেমন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তের পুলিশের বিবেচনায় বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোসাব্বির কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও এলাকায় তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিপক্ষের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শত্রুতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থগিত থাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে বড় পদ পাওয়ার কথা ছিল মুসাব্বিরের। এই পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে থাকতেও পারে। তবে এসব করণেই যে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট রা বলছেন, অন্যান্য কারণেও এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। ঘটনার সময় নিহতের সঙ্গে কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নেতা ও গুলিবিদ্ধ আবু সুফিয়ান সুস্থ হলে তার কাছ থেকেও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। কেননা তিনি ঘটনার সময় নিহতের সঙ্গে ছিলেন। তিনি কিছু জানলেও জানতে পারেন। সেক্ষেত্রে মামলাটি তদন্তে সহায়ক হবে।
বুধবার ( ৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকার স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা অপরজন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
ঢাকা/এমআর/রাসেল