হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ: তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকার
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরালের সামরিক অভিযান এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের দামামায় তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী যদি অবরুদ্ধ থাকে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল-জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত করছে। মার্কিন নৌবাহিনী ও তাদের মিত্ররা ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজ চলাচলের পথ খোলা রাখতে টহল দিচ্ছে।
ইরান প্রণালীর ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক কোম্পানি সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হার্স সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে।
ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের অধ্যাপক এড হার্সের মতে, “যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেলের অর্ধেক অংশ বন্ধ হয়ে যায়- সম্ভবত মার্কিন নৌবাহিনী আর ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিতে না পারার কারণে- তবে আমরা এমনটা দেখতে পারি যে- তেলের দাম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।”
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে এলএনজি বাজারে এর প্রভাব দেখেছি, যেখানে প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।”
হার্স আরো উল্লেখ করেন, “আমরা ডিজেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখেছি।” তিনি জানান, যেসব দেশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল তারা এখন পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যতের অর্ডারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি যোগ করেন, “এর একটি ব্যাপক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে।”
ঢাকা/ফিরোজ