ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

পুলিশের ব্রিফিং

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, মো. ওমর ফারুক, মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত, মো. সজল তালুকদার, ইয়াছিন, মো. নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি।

আরো পড়ুন:

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫ টায় সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা হতে এই চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে এবং মারধর করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। গ্রেপ্তারকৃতরা অপহৃতদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি তাদের পরিচিতজনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া তারা অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হীরার আংটিসহ বিকাশ, ডেবিট কার্ড ও কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে সর্বমোট ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৩ জানুয়ারি  যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়।

অন্য এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত তুলিয়া আক্তার সুমির সাথে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে সুমি তার সাথে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে গিয়ে ঐ ব্যক্তি সুমির সাথে দেখা করেন। দেখা করার পর সুমি ভিকটিমকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি সুমির বাসায় যান। বাসায় প্রবেশ করার ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ৬/৭ জন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার কাছে থাকা আট লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে খুন করবে মর্মে হুমকি দেয়। তখন তিনি নিরুপায় হয়ে তার সাথে থাকা নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটি আংটি ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বাদী মোখলেছুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় একটি মামলা হয়।

পৃথক দুইটি ঘটনার তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার একাধিক টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং ফাঁদে ফেলে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।

এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা/এমআর/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়