১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
‘মজলুম দলটি ক্ষমতা পেয়ে জালিম হতে শুরু করেছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরবর্তী সময়ে সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাটের অভিযোগ তোলেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
তারা বলেন, “১৭ বছরের মজলুম দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়ে জালিম হতে শুরু করেছে। বিতর্কিত একটি নির্বাচন দেখেছে বাংলাদেশ। নির্বাচনি ফলাফল টেম্পারিং করার মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে সরাসরি সহযোগিতা করে ইসি।”
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতারা।
সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন।
জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পরেই তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই মজলুমরা থামতে জানে না।”
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “তারেক রহমানের প্ল্যান ছিল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশে এসেই তার প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছেন। তারপর শুরু হয়েছে সারা দেশে হামলা নিপীড়ন।”
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “টিআইবির রিপোর্টে আজ স্পষ্ট কিভাবে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। আজ এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লেগেছে। অতিদ্রুত তদন্ত করে এই কলঙ্ক মোচন করুন।”
এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মানুষদের নিয়েই এই নির্বাচন হিয়েছিল। হাদির খুনিদের পালানোর পরই আমাদের সাবধান হওয়া দরকার ছিল।১১ দল উদারতা দেখিয়ে ভুল করেছে।এরপরও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করতে না পারে।”
ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর আবার শুরু হয়েছে হামলা।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন হয়নি, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামীর বাংলাদেশ চলবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। জনগণ স্বৈরাচার তাড়াতে পেরেছে সুতরাং সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সাথে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারা দিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের পর সারা দেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।”
বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি বরং ডাকাতি করেছে।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে এটা ভাবি নাই। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারী সমাজের ওপর যে হামলা নিপীড়ন হচ্ছে তা জঘন্য অপরাধ। সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসাথে লড়াই করে যাবে।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে সেখানে কোন টালবাহানা ছাড়াই তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “জুলাই সনদে না ভোট ও ধানের শীষ এর ভোট সমান হিয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার মানতে বাধ্য নয়।”
মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে ওদেরকে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “শহীদ ওসমান হাদীর বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নিবে না।”
ঢাকা/রায়হান/সাইফ