এফডিসিতে গিয়ে ‘বিব্রত’ ওমর সানী
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে বিএফডিসিতে গিয়েছিলেন ওমর সানী
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে প্রাণের টানে এফডিসিতে গিয়েও বিব্রতকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এফডিসির পরিবেশ, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান তিনি।
ওমর সানী জানান, দীর্ঘদিন পর চলচ্চিত্র দিবসে অংশ নিতে সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে যান তিনি। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘চাঁদের আলো’-এর ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওমর সানী জানান, এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে অবস্থানকালে হঠাৎ প্রযোজক ও অভিনেতা হেলাল খানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এমন গণজমায়েত, শোডাউনকে ‘অস্বস্তিকর’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে অপমানিত বোধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলেও জানান ওমর সানী।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে ওমর সানী বলেন, “এখন অনেক ক্ষেত্রেই শোডাউন এড়িয়ে সাধারণভাবে চলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে এমন প্রদর্শনী আমাকে হতাশ করেছে। তার মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির জায়গা কখনোই প্রদর্শন বা প্রভাব বিস্তারের মঞ্চ হওয়া উচিত নয়।”
এফডিসির সামনের সারিতে প্রকৃত শিল্পীদের পরিবর্তে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওমর সানী। তার দাবি, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও অনেক বহিরাগত সামনের কাতার দখল করে রাখেন। সেখানে শিল্পীদের সম্মান জানানোর বদলে ছবি তোলা ও উপস্থিতি দেখানোর প্রতিযোগিতা চলছিল।
ওমর সানী আরো জানান, তিনি আশা করেছিলেন চলচ্চিত্রের সিনিয়র শিল্পীদের অনেককেই সেখানে দেখতে পাবেন। কিন্তু পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখের অনুপস্থিতি তাকে হতাশ করেছে।
ভিডিও বার্তার শেষ দিকে আবেগঘন কণ্ঠে ওমর সানী বলেন, “চলচ্চিত্রের মানুষদের যেন তাদের নিজস্ব পরিসরে কাজ করতে দেওয়া হয়। বাইরের হস্তক্ষেপ ও অপ্রয়োজনীয় ভিড় থেকে চলচ্চিত্রাঙ্গনকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে, ওমর সানীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে এফডিসির পরিবেশ স্বাভাবিক ও শিল্পীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন।
বলে রাখা ভালো, এ বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজন ছিল তুলনামূলক সাদামাটা। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকজন পরিচালক ও শিল্পী ছাড়া তেমন পরিচিত মুখের উপস্থিতি ছিল না। শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে রোজিনা, পলি, সনি, জয় চৌধুরীসহ অল্প কয়েকজনকে দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে দিনটি ছিল অনেকটাই তারকাশূন্য।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত
হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল