‘যুদ্ধজয়ের ঘোষণা দিয়ে’ ইরানকে চুক্তি করার প্রস্তাব জারিফের
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জাভেদ জারিফ।
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ ‘যুদ্ধজয়ের ঘোষণা দিয়ে চুক্তি করার জন্য’ তেহরানকেেই প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ লেখা একটি নিবন্ধে জাভেদ জারিফ এই প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন তৎপরতার মধ্যে জারিফের এই প্রস্তাব ইরানের দিক থেকে একটি সমাধানে পৌঁছানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়।
কারণ, জারিফ শুধু সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন; ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। বর্তমানে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তিনি তার নিবন্ধে যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের সম্ভাব্য পথরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
নিবন্ধে জারিফ লিখেছেন, “ইরানের উচিত বিজয় ঘোষণা করা এবং এমন একটি চুক্তি করা, যা এই সংঘাত শেষ করবে এবং পরবর্তী সংঘাতও রোধ করবে।”
জারিফে পরিকল্পনার কিছু শর্তের মধ্যে রয়েছে:
- ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের নিচে নামাবে, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে নির্ধারিত ছিল (যা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেয়)।
- যেকোনো চুক্তিতে চীন ও রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে; যাদের সহায়তায় ইরানে একটি একক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। যেখানে ইরান তার সমস্ত সমৃদ্ধকৃত উপাদান ও যন্ত্রপাতি সেই স্থানে স্থানান্তর করবে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেবে।
- হারমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে; তবে যুক্তরাষ্ট্রকেও এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে ইরানকে।
- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যাতে দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে ভবিষ্যতে একে অপরের ওপর হামলা না করার।
ইরানের সরকারে কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে অবস্থান নেই জাভেদ জারিফ। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে নির্বাচিত করতে সহায়তা করেছেন তিনি। তাকে দেশটির ধর্মতান্ত্রিক প্রশাসনের কঠোরপন্থি অংশের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, জাভেদ জারিফ ফরেন অ্যাফেয়ার্সে নিবন্ধ প্রকাশের আগে অন্তত ইরিনের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন, না হলে তিনি এটি প্রকাশ করতে পারতেন না।
এখনো পরিষ্কার নয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। বিশেষ করে যখন জারিফ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভ উইটকফ এবং জামাই জ্যারেড কুশনারকে ‘ভূরাজনীতি এবং নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিতে অজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উইটকফ ও কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগেও এই আলোচনা হয়েছিল।
ঢাকা/রাসেল
হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল