ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় শিল্পপতি কারাগারে

বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২১, ২ এপ্রিল ২০২৬  
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় শিল্পপতি কারাগারে

শফিকুল ইসলাম শিরু

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বগুড়ার শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম শিরুকে (৬০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে জামিন নিতে হাজির হলে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক তাসকিন আহমেদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল।

গ্রেপ্তার শিরু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিনু অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিসেবে পরিচিত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আফরুজা আক্তার লিপির সঙ্গে ২০১০ সালে শিরুর বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়, যার বর্তমান বয়স ১৪ বছর। তবে, সন্তানের জন্মের পর থেকেই শিরু তাকে অস্বীকার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালে শেরপুর থানা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ওই নারী, যা বর্তমানে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই বছরের ২৭ আগস্ট শিরু তাকে তালাক দেন।

পরবর্তীতে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এসব মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শিরু পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে সন্তানের পিতৃত্ব-সংক্রান্ত মামলা রেখে অন্য মামলা প্রত্যাহার করলেও শিরু তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। বরং, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভনে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ের জন্য বলা হলে শিরু তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর ১০ নভেম্বর শেরপুর থানায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আফরুজা আক্তার লিপি বলেছেন, “শিরু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমার সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না। বিয়ের পর তালাক দেন, এর পর মামলা তুলে নিতে বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে আমার সঙ্গে জঘন্য অপরাধ করেছেন।” তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল জানিয়েছেন, আগে এ মামলায় আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তবে, বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা/এনাম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়