ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভিন্ন আয়োজনে প্রিয় বুলু স্যারকে বিদায়

লালমনিরহাট সংবাদদাতা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২ এপ্রিল ২০২৬  
ভিন্ন আয়োজনে প্রিয় বুলু স্যারকে বিদায়

ফুলে ফুলে সাজানো একটি মাইক্রোবাসে করে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান শিক্ষার্থীরা।

ফুলে ফুলে সাজানো একটি মাইক্রোবাস। তার সামনে ও পেছনে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর। অনেকটা ভিআইপি প্রটোকলের মতো করে প্রিয় শিক্ষককে শেষ কার্যদিবসে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য গোপালরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবীব বুলু স্যারের বিদায় বেলায় এমন এক বিরল ও অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষক আহসান হাবীব বুলুর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিদায় বেলায় প্রিয় সহকর্মীর এমন সম্মান দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরা বেগম ডলি।

স্থানীয়রা জানান, একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষকের বিদায়ে এমন আয়োজন এই এলাকায় এর আগে দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের এমন কৃতজ্ঞতাবোধ উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিদায় শেষে বিশাল মোটরসাইকেল বহরটি শিক্ষক আহসান হাবীব বুলুকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান।

এ সময় শিক্ষক আহসান হাবীব বুলু আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। আমি আজ গর্বিত যে আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে এত সম্মান দিয়েছে। তাদের এই ভালোবাসা আমার বাকি জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয়ে থাকবে।’’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরা বেগম ডলি বলেন, ‘‘আহসান হাবীব বুলু স্যার কেবল এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সবার আস্থার একটি নাম। তার সততা এবং পেশাদারিত্ব আমাদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার।’’

তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীরা আজ তাকে যেভাবে সম্মান দিয়ে বিদায় জানাচ্ছে, তা দেখে আমার চোখ ভিজে আসছে। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে। আমি তার সুস্থ ও দীর্ঘ অবসর জীবন কামনা করছি।”

বিদায় আয়োজনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, ‘‘বুলু স্যার আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন অভিভাবক। ছোটবেলায় তিনি যেভাবে আমাদের হাত ধরে বর্ণমালা শিখিয়েছেন, সেই ঋণ শোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। স্যারের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা সব বন্ধুরা মিলে এই ছোট আয়োজন করেছি।’’

আরেক শিক্ষার্থী মলি আক্তার বলেন, ‘‘স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যবই পড়াতেন না, কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়; তা শিখিয়েছেন। আজ স্যার বিদায় নিচ্ছেন ভেবে খারাপ লাগছে কিন্তু তাকে আমরা রাজকীয় সম্মানে বিদায় দিতে পেরেছি এটাই শান্তি।’’

ঢাকা/সিপন/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়