ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তীব্র গরমে ঘাম ঝরানো ফিটনেস ট্রেনিং শাপে বর হবে না তো?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪১, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২২:২১, ২ এপ্রিল ২০২৬
তীব্র গরমে ঘাম ঝরানো ফিটনেস ট্রেনিং শাপে বর হবে না তো?

তপ্ত গরম। তীব্র দাবদাহে সূর্য এখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। আকাশ মেঘমুক্ত আর বাতাস হয়ে উঠেছে অগ্নিহল্কা। চৈত্রর কাঠফাটা রোদে জনজীবন অতিষ্ঠ, মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির। ভ্যাপসা গরম ও ঘামে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। 

সেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা মাঠে একের পর এক চক্কর দিয়ে স্রেফ এলোমেলো অবস্থা। নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ তীব্র লড়াই শেষে ফিনিশিং লাইন টাচ শেষে মিরপুরের সবুজ ঘাসে শুয়ে পড়লেন। এরপর কয়েক বোতল পানি দেওয়া হয় দুজনের মাথায়। শুধু মিরাজ কিংবা নাসুম নয়, ফিটনেস ট্রেনিংয়ে বাকি সবারই প্রায় একই চিত্র। 

গত এক সপ্তাহ ফিটনেস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ঈদের ছুটির পর থেকে এই ট্রেনিং শুরু হয়। বছরের একটা সময়ে লম্বা সেশন চলে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে। সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে এবারের ট্রেনিং পরিচালনা করা হয়। 

যেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বাইরে থাকা একাধিক ক্রিকেটারকেও নিয়ে আসা হয়। ছিলেন সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার। আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে ক্রিকেটারদের স্কিল অনুশীলন। বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। 

এক সপ্তাহের ফিটনেস ট্রেনিং এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেখানে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য আলাদা কিছু কাজও ছিল। বিসিবির ট্রেনার ইয়াকুব ব্যাটসম্যানদের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘ব্যাটসম্যানদের অ্যান অ্যারোবিক ফিটনেসের ওপর জোর দিচ্ছি। যাতে তারা দ্রুততম সময়ে ম্যাক্সিমাম দূরত্ব কাভার করতে পারে।’

সবার ফিটনেস লেভেলের কথা জানাতে গিয়ে ইয়াকুব বলেছেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে তারা কঠোর পরিশ্রম করছে। সবার ফিটনেস লেভেল হাই। স্ট্রেন্থ, রানিং, ফ্লেক্সিবিলিটি, রিহ্যাব সব কিছু মিলিয়ে এবারের ফিটনেস টেস্ট ছিল। এতে করে আমি বিশ্বাস করি ফিটনেস লেভেল হাই হয়েছে।’’

তীব্র গরমে এই ফিটনেস ট্রেনিং শপেবর হবে না বিশ্বাস করেন ইয়াকুব, ‘‘আমরা লোড ক্যালকুলেশন করেছি। কার কতোটুকু লোড দরকার, কে কতুটুক নিতে পারবে ওই ধরণের হিসেব করে আমরা ট্রেনিংগুলো করছি। এই বছরে যেই সিরিজ আছে সেই পরিমাণ ফিট যদি ক্রিকেটাররা না থাকেন ধারাবাহ্ভিাবে ম্যাচগুলো খেলা কঠিন হয়ে যাবে। ’’

‘‘যাদের ইনসেনটিসি বেশি তারা ক্লান্ত হবেই। আপনি কতোটুকু জোরে দৌড়াচ্ছেন সেটা দেখার বিষয়। ধরুণ, কেউ একজন ২০ কিলোমিটার দৌড়াচ্ছে। কেউ হয়তো ২৫ কিলোমিটার। যারা ইনসেনটিসি বেশি সে একটু ক্লান্ত হবেই। এখন পর্যন্ত কোনো সিভিয়ার ইনজুরির খবর নেই আমাদের কাছে। যারা আসছে তারা তাদের রিহ্যাবের কাজ করছে।’’ - যোগ করেন তিনি। 

ট্রেনিংয়ের শুরু থেকেই ক্রিকেটারদের সাথে ছিলেন বিসিবির প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, প্রধান সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। সামনে স্কিল ট্রেনিং সেশন তারাই পরিচালনা করছেন। ৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ক্রিকেটারদের ব্যাট-বলের এই ট্রেনিং সেশন। 

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়