হত্যার আলামত নষ্ট করতে ওবায়দুল্লাহর মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলেন শাহিন
শনিবার দুপুরে মতিঝিলে হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়
রাজধানীতে মো. ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহিন আলম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশ থেকে নিহত ওবায়দুল্লাহর একটি খণ্ডিত পা, পরদিন সকালে বায়তুল মোকারমের স্টেডিয়াম-সংলগ্ন ফটকের পাশ থেকে দুটি হাত, দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে অপর একটি পা উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মতিঝিলে হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, নিহতের মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেল জব্দ করা হয়। শনিবার রাতে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে খণ্ডিত মাথা, আমিনবাজারের সালেহপুর সেতুর নিচ থেকে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
হারুন অর রশিদ আরো জানান, নিহত মো. ওবায়দুল্লাহ রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শাহিন আলম তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানের একটি হোটেলে কাজ নেন। সেখানে ২০ দিন কাজ করার পর বেতন কম পাওয়ায় সে চাকরিটি ছেড়ে দেন। এর পর বাল্যবন্ধু মারুফের কমলাপুরের বাসায় ওঠেন। মারুফ হবিগঞ্জে চলে গেলে শাহিন দুই মাস ধরে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে থাকা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি হীরাঝিল হোটেলে কাজ শুরু করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শাহিন হীরাঝিল হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পথে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে সিগারেট আনতে বলেন। টাকা নেই, জানালে ওবায়দুল্লাহ শাহিনকে টাকা দেন। শাহিন সিগারেট এনে দেন। কিছুক্ষণ পর আবার শাহিনকে রুটি ও কাবাব আনতে বলেন ওবায়দুল্লাহ। রমজান মাসে ইফতারের পর ছয় তলা থেকে বারবার নিচে নামায় শাহিনের বিরক্তির উদ্রেক হয়। রাতে শাহিন ঘুমানোর চেষ্টা করলে ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এছাড়া, ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে শাহিন আলম আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। শাহিন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে আঘাত করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শাহিন আলামত নষ্ট করার জন্য মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন।
ঢাকা/এমআর/রফিক