ঢাকা     শনিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩৩ || ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা, জট কমাতে নতুন পদক্ষেপ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:৪৯, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা, জট কমাতে নতুন পদক্ষেপ

জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আরো পড়ুন:

দেশে বিচারব্যবস্থায় মামলার জট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, মামলার জট কমাতে সরকার ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত এবং ২৩২ জন বিচারকের নতুন পদ সৃষ্টি করেছে। আরো ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া বিচারিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরো ৫৫৩ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।

বিচার বিভাগ নিয়ে অতীত সরকারের সমালোচনা

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিচারকদের বদলি ও পদায়নে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাওয়া বিচারকদের দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার এ ধারা থেকে সরে এসে সততা, দক্ষতা ও বিচারিক আচরণকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। তবে বিচারকদের নিয়োগ ও পদায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাতেই থাকে।

রাজনৈতিক মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার এজাহারে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকায় কতগুলো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা এ বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভুল পরিসংখ্যান নেই।

তবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নীতিগতভাবে হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

মামলা নিষ্পত্তির সময় নিয়ে তথ্যের অভাব

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে গড় সময় কত লাগে এ বিষয়ে কোনো সমীক্ষা নেই বলে জানান মন্ত্রী। তবে আইনে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও মামলার ধরন অনুযায়ী এক বছর থেকে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

ঢাকা/এএএম/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়