চাকরিতে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা
কাজী আশরাফ || রাইজিংবিডি.কম
কাজী আশরাফ : ‘চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবেন পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার যেন কোনো প্রকার মনোমালিন্য না হয়। তাছাড়া এ সময় ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো খারাপ মন্তব্য করবেন না।’ কথাগুলো বলছিলেন গুলশান-২-এর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আনিসুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকা চাই। এ ক্ষেত্রে সহকর্মীরা যদি খারাপ আচরণও করে তবুও মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। নিজের দৃঢ়তার প্রমাণ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সময় যেমন কিছু নিয়ম মানতে হয় তেমনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময়ও আপনাকে অনুসরণ করতে হবে কিছু নিয়ম-কানুন।
প্রত্যেক মানুষই চায় নিজের অবস্থান উন্নত করতে। ফলে সে যে অবস্থানে কাজ করছে যদি তার চেয়ে ভালো এবং সম্মানজনক কোনো প্রস্তাব সে পায় তবেই ইস্তফা দেওয়ার কথা আসে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, কিছু বিশেষ দিক মানতে হবে যেগুলো এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার জন্য সহায়ক হবে। পাঠক চলুন এবার সেগুলো জেনে নেওয়া যাক-
বসকে জানাতে হবে সবার আগে
চাকরি ছেড়ে দেবেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে বসকে জানানো। নিজের ভবিষ্যৎ আগে ঠিক করে নিন। অতঃপর প্রথমে সহকর্মী নয় বসকে জানান। মনে রাখবেন সহকর্মীর সঙ্গে বললে কোনো না কোনোভাবে বসের কানে যাবেই। তখন ব্যাপারটি ভালো নাও হতে পারে। বসের কাছে বলার সময় কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বসকে কখনই টেলিফোন, ই-মেইল অথবা আপনার সহকর্মীর মাধ্যমে জানাবেন না। এক্ষেত্রে আপনি সরাসরি বসকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন। মনে রাখবেন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ স্বেচ্ছায় চলে গেলে প্রতিষ্ঠানের এতে সুনামহানি ঘটে। তবে হ্যাঁ, বসের কাছে যাওয়ার আগে পদত্যাগ পত্রটি সঙ্গে নিতে অবশ্যই ভুলবেন না।
রিজাইন লেটারের ক্ষেত্রে করণীয়
মনে রাখবেন রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম কিন্তু অন্য দশটা চিঠির মতো নয়। এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেটির নিয়ম অনেক চাকরিজীবীরও অজানা। রিজাইন লেটারে কিছু বিষয় উল্লেখ করতে কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না। যেমন কী কারণে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো খারাপ মন্তব্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, কত তারিখ থেকে আপনি অফিসে আর আসবেন না সেটি জানিয়ে দিন। রিজাইন লেটারের শেষে বস এবং কলিগদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করবেন। আপনার হাতের লেখা সুন্দর হলে চিঠিটি হাতেও লিখতে পারেন তবে কম্পিউটারে লেখাই উত্তম। সবশেষে লেটারটি আরেকবার পরীক্ষা করে নিন কোন ভুলত্রুটি অথবা কোনো নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে কিনা। থাকলে তা পরিহার করুন।
সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে
অনেক প্রতিষ্ঠান রিজাইন লেটার দেওয়ার পর আপনাকে ডেকে পাঠাতে পারে। তারা আপনার কাছে জানতে পারে কেন আপনি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন? প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? তখন আপনি বিনয়ের সঙ্গে কথার উত্তর দিন। ভুলেও কখনও কোম্পানি সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। তারা যদি আপনাকে থেকে যেতে অনুরোধ করে তবে বিনয়ের সঙ্গে তাও প্রত্যাখ্যান করুন। আপনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর যে কয়দিন ওই অফিসে কাজ করবেন তখন নানারকম গুজব রটতে পারে। অনেকেই অনেক মন্তব্য করতে পারে, সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনো বিতর্কে না যাওয়াই ভালো।
আপনার দায়িত্ব সঠিকভাবে শেষ করুন
চাকরি থেকে ইস্তফাপত্র দেওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠানে কয়েকদিন কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে কখনও আপনি ওই অবশিষ্ট কদিন কাজে ফাঁকি দেবেন না। এ প্রসঙ্গে মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘অবশিষ্ট যে কদিন আপনাকে কাজ করতে হবে তা নিয়মমাফিক করুন। প্রয়োজনে আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করার জন্য অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই যেন বুঝতে না পারে আপনি চলে যাচ্ছেন বলে কাজে অবহেলা করছেন। বিশেষ করে শেষ কটা দিন এমন কোনো কাজ করা যাবে না যার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানে আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা জš§ায়।
লক্ষ্য রাখুন
* আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে শেষ হয়েছে কিনা।
* অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ডিলেট করা যাবে না।
* গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বা কর্মপরিকল্পনা এবং অফিসের বিশেষ কোনো কাগজ সঙ্গে নেবেন না।
* শেষের কয়েকটি দিন কারও সঙ্গে কোনো প্রকার বিতর্কে যাবেন না।
* প্রয়োজনে শেষের দিন একটু বেশি পরিশ্রম করুন। কোনো দায়বদ্ধতা নিজের ওপর রাখবেন না।
* শেষদিন বসের কাছে আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিন।
* অতঃপর সবাইকে হাসিমুখে বিদায় জানিয়ে অফিস থেকে বের হোন, চলুন নতুন গন্তব্যে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬/তারা
রাইজিংবিডি.কম
নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে আসা মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের