ঢাকা     শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২১ ১৪৩২ || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার অভিযান হবে ‘খুবই বিপজ্জনক’: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১২, ৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১২:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার অভিযান হবে ‘খুবই বিপজ্জনক’: বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিধ্বস্ত হয়।

এই ঘটনায় একজন মার্কিন ক্রু সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাকে উদ্ধারে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

আরো পড়ুন:

শনিবার (৪ এপ্রিল) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান জানান, বিধ্বস্ত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের যেকোনো মার্কিন অভিযান হবে ‘খুবই বিপজ্জনক’।

তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত ইনফ্যান্ট্রি অপারেশন শুরু করবে, যেখানে হেলিকপ্টার ও এস-১৩০ গানশিপ ব্যবহার করা হবে। এগুলো খুব নিচু দিয়ে উড়ে যাবে, যা তাদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

উলম্যান আরও বলেন, “আমাদের টিমগুলো এই কাজে বিশ্বের সেরা এবং তারা দ্বিতীয় ক্রু মেম্বারকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। প্রশ্ন হলো, সেই সদস্য কী অবস্থায় আছেন? প্যারাশুটে নামার সময় তিনি কি আহত হয়েছেন? তার কাছে কি বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম আছে? এবং আমরা কি তাকে উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারব?”

তার মতে, এই অভিযানে ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করার সম্ভাবনা কম। বরং এটি হবে একটি ‘ইন অ্যান্ড আউট’ (দ্রুত ঢুকে উদ্ধার করে বেরিয়ে আসা) অপারেশন। প্রথমে পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করতে হবে, এরপর চারপাশের এলাকা বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে যাতে শত্রুপক্ষ কাছে আসতে না পারে এবং দ্রুত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাকে তুলে নিয়ে আসতে হবে।

উলম্যান সতর্ক করে বলেন, ইরানিরা ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে এবং একজন মার্কিন সেনাকে জীবিত বন্দি করা তাদের জন্য বড় স্বার্থের বিষয়। তাই এই অভিযান যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করতে হবে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি করে, তারা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ‘নতুন ও উন্নত’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই বিমান দুটি ভূপাতিত করেছে।

এর মধ্যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া এ-১০ ওয়ারথগ বিমানের একমাত্র পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার আক্রান্ত হলেও নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক ঘোষণায় বলেছে, মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারলে পুরস্কৃত করা হবে।

আল-জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি সংবাদদাতা রোজিল্যান্ড জর্ডানের মতে, গত বুধবার (১ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে- যদি না তেহরান মার্কিন পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকার করে। অন্যথায় আমেরিকা বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোসহ ইরানের ওপর আরও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার হুমকি দেয়।

কিন্তু দুই দিন পর ওয়াশিংটনসহ পুরো আমেরিকায় এখন আলোচনার মূল বিষয় হলো দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান হারানো এবং একজন ক্রু মেম্বারের নিখোঁজ হওয়া।

এই ঘটনা মার্কিন জনগণের সামনে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, এটি কেবল দূরদেশের কোনো সংঘাত নয় যা তাদের স্পর্শ করবে না। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এফ-১৫ই বিমানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে স্থানীয়দের সেই ধ্বংসাবশেষ দেখতে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে চাপের মুখে আছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন আমেরিকান মনে করেন এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত। ৩৬ দিন আগে কোনো বড় জনমত ছাড়াই শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জীবনের ঝুঁকি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়