ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

শীতে নিজের যত্ন

ডা. খায়রুন নাহার শায়লা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  
শীতে নিজের যত্ন

শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য ত্বক ও চুলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যেতে পারে। শুষ্ক ত্বক, ত্বকের চুলকানি, মাথায় অতিরিক্ত খুশকি ও চুল পরা, ঠোঁট ফেঁটে যাওয়া, পায়ের গোড়ালি শক্ত হওয়া ও পা ফাটা এই সমস্যাগুলো সাধারণত আমাদের দেশে শীতকালে কমবেশি সবারই হয়। শীতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার জন্যই মূলত এই সমস্যাগুলো হয়। সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে এগুলো প্রতিকার করা সম্ভব।

ত্বকের যত্ন

শীতে প্রতিদিন ত্বকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য পেট্রোলিয়াম বা ক্রীম জাতীয় ময়শ্চারাইজার ভালো। ওলিভ অয়েল, ভেসলিন, এমনকি নারিকেল তেল ও ভালো ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া, বাজারে বিভিন্ন ভালো ব্র্যান্ডের ময়শ্চারাইজার ক্রীম পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় ময়শ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে, কারো যদি সংবেদনশীল ত্বক থাকে, সেক্ষেত্রে ফ্রেগন্যান্ট ফ্রি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

শীতে ময়শ্চারাইজারের পাশাপাশি সান স্ক্রীন ক্রীমের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। শীতে তাপমাত্রা কম থাকে, তাই এই ঋতুতে অনেকেই সান স্ক্রীন ক্রীম ব্যবহার করেন না। কিন্তু শীতেও UVB রশ্মীর ক্ষতি কারক প্রভাব থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করে। এছাড়া, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও বাতাস পরিহার করতে হবে।

শরীরের যত্ন

শীতে ত্বকের যত্নে প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা ভালো। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বা অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি বাড়ে। যাদের অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, যেমন- বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিক বা কিডনী রোগী, তাদের ক্ষেত্রে শুধু শরীরের ভাজে ভাজে সাবান ব্যবহার করতে হবে। 

চুল, ঠোঁট এবং পায়ের যত্ন

নিয়মিত চুল ধোয়া, প্রয়োজনে এন্টি ডেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে শীতে চুল ভালো থাকবে। পায়ের তলায় নিয়মিত ভেসলিন লাগানো, অতিরিক্ত  ঠাণ্ডায় মোজা ব্যবহার- এই নিয়মগুলো মেনে চললে পা ফাঁটার সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। এছাড়া ঠোঁটের যত্নে নিয়মিত ভেসলিন ব্যবহার করতে হবে। 

করণীয় 

ত্বকের যত্নে স্বাস্থকর খাবার খেতে হবে। ভিটামিনস, বিশেষত ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার এ এন্টি অক্সাইডেন্ট থাকে যা ত্বকের রিপেয়ার করে, লাবণ্য বাড়ায়। তবে, অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, শুষ্কতা থেকে চামড়া উঠা বা স্কেলিং, ত্বক লাল হলে, ত্বকে চুলকনিযুক্ত দানা হলে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে।
এছাড়া শীতে শুষ্কতার পাশাপশি কিছু কিছু রোগের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সোরিয়েসিস, একজিমা, এটপিক একজিমা, ঠাণ্ডার এলার্জী, চেইলিটিস, স্ক্যাবিস ইত্যাদি রোগের লক্ষণ বাড়ে। এই ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশ্বেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিতে হবে।

শান্ত//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়