ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩০

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না দিলে বয়কটের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ৩ নভেম্বর ২০২৩  
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না দিলে বয়কটের হুমকি

সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সংবাদ সংগ্রহে বয়কটের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সচেতন নারী সাংবাদিক সমাজ।  

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, খায়রুল আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস, ফারহানা যুথি, ঝর্ণা রায়, সেবিকা রানি, হালিমা আক্তার লাবনী, শাহনাজ পারভীন, জামান দত্তসহ আরও অনেকে।

সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রথম শ্রেণির স্তম্ভকে ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা কারা করেছিলো। আপনারা ইতোমধ্যে তা শুনেছেন।

গত ২৮ অক্টোবর সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের মদদে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা জানিনা এই হামলা কারা ঘটিয়েছে, কার মদদে ঘটেছে। কিন্তু সেদিন বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ছিলো। তাদের ওই কর্মসূচির দিনে যে হামলাটি হয়েছে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতেই হবে। সরকারকে বলতে চাই, এতোদিন হয়ে গেলো, হামলার ঘটনা ঘটেছে অভিযুক্তদের কেন তারা বের করতে পারছে না।

ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনুন, কারণ সংবাদকর্মীরা কোনো দলের হয়ে কাজ করেন না, জনগণের জন্য কাজ করেন এবং জনগণকে সঠিক তথ্যটি পৌঁছাতে চায়। এই সংবাদকর্মীরা কাদের টার্গেট? বরং সেদিন যে হামলা হয়েছিলো তা আপনারা স্পষ্টতই বুঝতে পেরেছেন। সেই হামলাগুলো টার্গেট করে হামলা। তাহলে সংবাদকর্মীরা কাদের টার্গেট?

তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা কিন্তু ছেড়ে দিবে না। এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটাবেন আর সাংবাদিকরা চুপ করে থাকবে এটা কিন্তু হবে না। সারাদেশের সাংবাদিকরা কোনো দলের জন্য কাজ করছে না। আপনাদের (জনগণ) জন্য কাজ করছেন। তাহলে কারা জনগণের শত্রু, এটা আপনাদের খুঁজে দেখতে হবে। জনগণের জন্য যারা কাজ করছেন, আজকে কেনো তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। সাংবাদিকেরা কেউ কিন্তু চুপ করে বসে থাকবে না। আপনাদের এই অপতৎপরতার জবাব কিন্তু দিতে জানে। তারা যেমন সংবাদ লিখতে জানেন, ক্যামেরা চালাতে জানেন, কলম ধরতে পারেন, তারা কিন্তু প্রতিবাদে রাস্তায়ও নেমে আসতে পারেন। সুতরাং আপনারা সাবধান হয়ে যান। আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, একসাথে কাজ করুন। দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না। রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতে পারে, তবে দেশের ক্ষতি করে এ ধরনের কাজ আপনারা করবেন না।

সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সাংবাদিকদের ওপর গত ২৮ অক্টোবর যে হামলা হয়েছে ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। কিন্তু আপনারা খেয়াল করবেন ইতোমধ্যে হামলা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে এবং সেই বিভ্রান্তি থেকে জাতিসংঘও রক্ষা পায়নি। আপনারা প্রকাশ্যে দিনের বেলায় দেখেছেন বিএনপি-জামায়াতের যে সমস্ত জায়গায় সমাবেশ চলছিলো সেসব জায়গায় হামলা ঘটেছে। এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হামলা ছিলো। কিন্তু এখন বিএনপি এবং তার মিত্ররা এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটাকে তারা ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। যতক্ষণ না অভিযুক্তরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, আমি তন্যতন্য করে খুঁজে দেখেছি ৭ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত গাজায় ৩৪ জন সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত একটাও বিবৃতি দেয়নি। অথচ বাংলাদেশে কোন কিছুই হলেই এমনকি হিরো আলমকে একটু ধাক্কা দিলেও বিবৃতি দেয়। আমরা অদ্ভুত একটা সমাজে বসবাস করি। আমরা সেই মানবাধিকার সংগঠনকে খুঁজে পাচ্ছি না, বিভিন্ন হিউম্যান রাইটস সংগঠনগুলোকে আমাদের পক্ষে খুঁজে পাচ্ছি না। এখন সবাই চুপচাপ হয়ে গেছে। এর আগে আমি তিনটা দাবির কথা তুলে ধরেছি; একটি হচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ঘটনা ঘটেছে তাদের টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করতে হবে, বিএনপিকে ক্ষমা চাইতে হবে এই হামলার জন্য, আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই কর্মসূচি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আশা করি ভবিষ্যতে সাংবাদিকের ওপর হামলার কথা আর চিন্তা করবে না।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই। তারা কাজ করেন জনগণের জন্য। জনগণের কথা প্রকাশ করেন। অথচ বিএনপি-জামায়াতকে সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পরেই তারা হামলা চালিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেককেই জীবন পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ গত ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত ৩১৩ জন বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। ৪ জন মারা গেছেন। আর গুরুতর আঘাতের শিকার হয়েছেন ২০ জন।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের সাংবাদিকরা নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। অধিকাংশ বিএনপি-জামায়াতের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। অথচ কোনো রাজনৈতিক দল দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেনি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে সংবাদ সংগ্রহ বয়কটের ঘোষণা করা হবে।

মামুন/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়