ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১০ ৫:০১:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১০ ৭:১৫:২৩ পিএম

‘সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইনের শাসন নিশ্চিত করা। অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তারা যেই হোক না কেন... এটা আমাদের সিদ্ধান্ত এবং আমরা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছি।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মানবাধিকার দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিতে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুণ্যের অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এনএইচআরসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, “মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কারণ, এগুলো একটি সমাজকে ধ্বংস ও দূষিত করে। ‘সুতরাং, এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রথমে সমাজের কাছ থেকে আসা উচিত... জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি প্রয়োজন।

‘সরকার মানবাধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও বহু সংশোধন করেছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) শক্তিশালী করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকার ও নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে দেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, “মানবাধিকার ও নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে দেশবাসীকে জানাতে হবে। কেননা, অধিকার ও দায়িত্ব একে অপরের পরিপূরক। একের দায়িত্ব অপরের অধিকার। আবার একের অধিকার অপরের দায়িত্ব। মানবাধিকার রক্ষায় অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্ট করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।

‘মানবাধিকার রক্ষায় এনএইচআরসি নাগরিকদের দায়িত্ব ও তাদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

মানবাধিকার রক্ষায় আইনের শাসন খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। অতএব অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

সরকার শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব অপরাধকে আমাদের দমন করতে হবে। কারণ, এই অপরাধীরা সমাজকে ধ্বংস করে।’

প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবাধিকার দিবস পালন করে আসছে। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং এনএইচআরসি’র চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মানবাধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রদর্শনের পাশাপাশি দিবসের থিম সং বাজানো হয়।


ঢাকা/পারভেজ/সনি