ঢাকা, সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৪ ৫:৩৬:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৪ ১০:১৪:৩৬ পিএম

এক সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যা, নারী নির্যাতন, যৌতুকের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ইমেইলের মাধ্যমে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান রমনা থানায় অভিযোগটি পাঠান।  রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি বলেন, ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ আমরা মামলা হিসেবে নেই না।  মামলা করতে হলে তাকে সশরীরে এসে আবেদন করতে হবে।  তারপরও ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।  তারা সিদ্ধান্ত জানালে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগে ইশরাত রহমান তার স্বামী নাজমুস সাকিব, শ্বশুর সফিউল্লাহ তালুকদার (৬০), শাশুড়ি খালেদা সুলতানাকে (৫২) অভিযুক্ত করেছেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত এএসপি নাজমুস সাকিব র‌্যাব সদরদপ্তরে কর্মরত আছেন।

অভিযোগে বলা হয়, নাজমুস সাকিবের (৩৪) সঙ্গে ইশরাত রহমানের ২০১৭ সালে মার্চে বিয়ে হয়।  বিয়ের পর থেকে শ্বশুর মো. সফিউল্লাহ তালুকদার (৬০), শাশুড়ি খালেদা সুলতানা (৫২) তাদের যৌতুকলোভী এবং অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ করতে থাকেন।  আসামিরা বিভিন্ন সময় ইশরাতকে তার বাবার কাছ থেকে নগদ টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন।  টাকা না দিলে সব আসামি মিলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।  নির্যাতনের ভয়ে তিনি তার বাবার কাছ থেকে প্রায়ই নগদ টাকা এনে আসামিদের দিতেন।  

অভিযোগে আরও বলা হয়, ১২ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় আসামিরা ইশরাতের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। ওই সময় ইশরাত গর্ভবতী হলে তার ওপর আসামিদের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তারা তালাকের ভয় দেখিয়ে ইশরাতকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। ইশরাত  রাজি না হলে তার ওপর  নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ইশরাতের স্বামী নাজমুস সাকিব তালাকের ভয় দেখিয়ে গর্ভপাত করান।

বাদী ইশরাতের অভিযোগে আরও বলেন, ‘নাজমুস সাকিবের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের যেসব ব্যক্তিগত স্থিরচিত্র ও ভিডিও আদান প্রদান হতো,  সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দিচ্ছেন তিনি।  আমি ও আমার পরিবার প্রতি মুহূর্তে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘ভিকটিম তার পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।  ভিক্টিমের বাবা আশঙ্কা করেছেন,  আসামি পুলিশ হওয়ায় ন্যায়বিচার পাবেন কিনা! আমি আশ্বস্ত করেছি, ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য আসামি নিজে দায়ী। এখানে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তাকে কোনো রকম অবৈধ সহযোগিতা করবে না বরং ভিকটিমকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করবে।’

অভিযোগের বিষয়ে এএসপি নাজমুস সাকিব জানান, তার স্ত্রী উচ্চাভিলাষী। তিনি আলাদা সংসার করতে চান। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চারটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

এবিষয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, এএসপি নাজমুস সাকিব এবং তার স্ত্রীর পরস্পরবিরোধী অভিযোগ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এখানে বর্ণিত বিষয়ে অফিসার এর আগে বিভিন্ন সময়ে চারটি জিডি করেছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রীও বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন।

 

ঢাকা/নূর/জেডআর