ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

আন্তঃজেলা বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০০, ৭ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১২:০৩, ৭ আগস্ট ২০২২
আন্তঃজেলা বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার রাতে বিআরটিএ কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বেড়েছে সকল রুটের বাস ভাড়া। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে প্রায় সব দূরপাল্লার রুটেই বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এখনও অনেক বাস কাউন্টারে দাম বৃদ্ধির তালিকা টানানো হয়নি। যার ফলে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে বাস কোম্পানিগুলো।

রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আরামবাগ, ফকিরের পুল, সায়েদাবাদ, মানিকনগরের বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, একেক কাউন্টারে টিকিটের দাম একেক রকম। প্রতি টিকিটে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অনেকে বাস ভাড়া বৃদ্ধির খবর জানতেন না, তারা পড়েছেন বেশি বিপাকে।

শ্যামলী পরিবহন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নন-এসি বাসের টিকিটের দাম নিচ্ছে ৬৫০ টাকা। যা ছিল ৫৮০ টাকা। এসি বাসের টিকিটের দাম ছিল ৮০০ টাকা, যা আজ নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। কক্সবাজার নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৯০০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১০০০ টাকা। কক্সবাজার এসি বাসের ভাড়া ছিল ১২০০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১৩০০ টাকা। সিলেট নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৫৭০ টাকা, আজ সকাল থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা। সিলেট এসি বাসের ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা, আজ সকাল থেকে নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা।

শ্যামলী কাউন্টারের সোহরাব মিয়া বলেন, সকাল থেকে ৭০-১০০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া নিচ্ছি। এখনও সরকারি নতুন ভাড়ার তালিকা পাইনি। সেই তালিকা পেলে এই ভাড়া আরও বাড়বে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নন-এসি বাসের ৫৮০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা। কক্সবাজারের ৯০০ টাকার টিকিট ১০০০ টাকা এবং সিলেটের ৫৭০ টাকার টিকিট নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা।

কাউন্টারের নজরুল ইসলাম বলেন, একেক বাসে একেক রকম ভাড়া। সরকারিভাবে এখনও ভাড়ার চার্ট করা হয়নি। সেটি হয়ে গেলে সবার কাছে চার্ট চলে যাবে, আমরাও সে অনুযায়ী ভাড়া নেবো।

এস আলম পরিবহনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের নন-এসি বাসের টিকিট ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬৮০ টাকা আর কক্সবাজারের এসি বাসের ৯০০ টাকার টিকিটের দাম আজকে ১০০০ টাকা।

ইউনিক বাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ভাড়া ১২০ টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা। সিলেটের ভাড়া ১১০ টাকা বাড়িয়ে ৬৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কক্সবাজারে ৯০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সেন্ট মার্টিন ট্রাভেলসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসি বাসের টিকিটের দাম ৭৫০ টাকা ছিল, আজকে ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের ভাড়া ১২০০ টাকার বদলে ২০০ টাকা বাড়িয়ে আজ ১৪০০ টাকা নিচ্ছে। আর বরিশালের এসি বাসের ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে।

তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে সৌদিয়া পরিবহন। তারা এখনও ঢাকা- চট্টগ্রাম নন-এসি বাসের টিকিট ৫৮০ টাকাতেই বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিকিট বিক্রেতা সৈকত হক বলেন, মালিকপক্ষ আগের দামেই বিক্রি করতে বলেছে। সেজন্য আমরা আগের দামেই টিকিট বিক্রি করছি। তারা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিলে তখন থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

লক্ষ্মীপুরগামী বাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বাড়িয়েছে ইকোনো সার্ভিস। কাউন্টারে গিয়ে জানা যায়, ঢাকা থেকে আগে ভাড়া আগে ছিল ৪৫০ টাকা, আজ ২০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা। কেন এত টাকা বাড়ানো হলো, জানতে চাইলে ইকোনো বাস কাউন্টারের শরীফুল ইসলাম জানান, তেলের দাম বেড়েছে। সকাল থেকে যাত্রী কম, ভাড়া না বাড়ালে তেলের পয়সাও উঠবে না।

নোয়াখালীগামী একুশে এক্সপ্রেসে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। ড্রিম লাইনে ঢাকা থেকে বসুরহাট (নোয়াখালী) নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৩৬০ টাকা। আজকে ৯০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ছিল ৩৮০ টাকা, ১০০ টাকা বাড়িয়ে আজ তারা বিক্রি করছেন ৪৮০ টাকায়।

একই রুটের হিমাচল এক্সপ্রেসে নন-এসি বাসের ভাড়া আজ ৫০০ টাকা আর এসি ৫৫০ টাকা। হিমাচল এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, সকাল থেকে ৪০ সিটের গাড়িতে ২০ জন যাত্রীও হচ্ছে না। তেলের দাম বেড়েছে। বাড়তি দাম না নিয়ে কী করব, বলেন?

ঢাকা থেকে ফেনী রুটে চলাচলকারী স্টার লাইন পরিবহনের নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৩২০ টাকা। রোববার সকাল থেকে ৮০ টাকা বাড়িয়ে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসি বাসের ভাড়া ছিল ৩৭০ টাকা, আজ ৮০ টাকা বাড়িয়ে তা ৪৫০ টাকা করা হয়েছে।

স্টার লাইনের টিকিট বিক্রেতা নিজামুক হক বলেন, গতকাল যে দাম বাড়ানো হয়েছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করেছে মালিকপক্ষ। এরপর আমাদের দাম জানানো হয়েছে। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের পর আরেকটা চার্ট আসবে।

শনিবার রাতে বিআরটিএ এবং বাস মালিকদের বৈঠকের পর ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিআরটিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারের জন্য যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মহানগরে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৩৫ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা আর মিনিবাসে ৮ টাকা।

মেয়া/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়