ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

তামাকজনিত মৃত্যু কমাতে দ্রুত আইন সংশোধনের তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ৫ ডিসেম্বর ২০২২  
তামাকজনিত মৃত্যু কমাতে দ্রুত আইন সংশোধনের তাগিদ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়েছেন সংসদ সদস্য, জনস্বাস্থ্যবিদ, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘প্রাইম মিনিস্টার’স ভিশন অব টোব্যাকো-ফ্রি বাংলাদেশ বাই ২০৪০, অ্যাচিভমেন্টস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানটি সম্মিলিতভাবে আয়োজন করে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ডরপ এবং উন্নয়ন সমন্বয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের তামাকবিরোধী নানা কার্যক্রমের ফলে তামাকের ব্যবহার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৮.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। স্বল্প সময়ে তামাকের এই ব্যবহার হ্রাস সরকারের সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করলেও ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের জন্য তা যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কিছু দুর্বলতা, যেমন: পাবলিক প্লেস এবং পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান সংরক্ষণ, বিক্রয়স্থলে তামাক পণ্য প্রদর্শন, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর), তামাকপণ্যের খুচরা বিক্রয় এবং ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকপণ্য বিক্রয় চলমান থাকায় তামাক ব্যবহার হ্রাসে তা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গু হয়। তাই, আইন সংশোধনের মাধ্যমে তামাক ব্যবহারে কঠোরতা আরোপে যত দেরি হবে তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকবে। দেশে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে—সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বিলুপ্ত করা; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা; সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য) কাজী জেবুন্নেসা বেগম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইয়োলোন্ডা রিচার্ডসন, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) ভাইস প্রেসিডেন্ট বন্দনা শাহ, সিটিএফকে বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এবং তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

হাসান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়