ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

স্বস্তি সবজির বাজারে, অস্বস্তি চাল-চিনি-তেলে 

নিজস্ব প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ৯ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৪:৩৯, ৯ ডিসেম্বর ২০২২
স্বস্তি সবজির বাজারে, অস্বস্তি চাল-চিনি-তেলে 

বাজারে শীতের সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে  সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে চাল, আটা, তেল, চিনি ও ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে পরিবর্তন হয়নি। বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই চড়া দামে। এ কারণে সাধারণ ক্রেতা সবজি ক্রয় করে স্বস্তি প্রকাশ করলেও চাল-চিনি-তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছেন। 

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিসহ কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগের তুলনায় শীতকালীন কিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে অনেক নিত্যপণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

আজ রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে পাতাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। লম্বা বেগুনের কেজি ৬০-৭০ টাকা। গোল বেগুন ৮০-৯০ টাকা কেজি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। আর কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।  

বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৮০। করলা ৬০-৮০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। চিচিঙ্গা ৬০, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৬০, কচুর লতি ৭০-৮০, পেঁপে ৩০-৪০, বরবটি ৬০-৮০ ও ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে গত দুই সপ্তাহে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২-৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল-গুটি-স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকার কাছাকাছি। আর পাইজাম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকায়। মাঝারি মানের বিআর-২৮ চালের প্রতি কেজি ৫৬-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫-৭৫ টাকার মধ্যে। নাজিরশাইল চাল মানভেদে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৭৪-৮৫ টাকায়।

দাম বেড়েছে আটার‌। খোলা আটা কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৭০-৭৫ টাকা। চিনির বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। বেশিরভাগ দোকানে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে না। কিছু দোকানে খোলা চিনি পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে। সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা লিটার। দেশি মসুরের ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ১২০-১২৫ টাকা।

মাছ-মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা দরে। সোনালী মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। বাজারভেদে ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোর বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন প্রচুর শীতের সবজি রয়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেশ ভালো। ফলে শীতকালীন সবজির দাম এখন কমতির দিকে। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে চাল-চিনি-তেলেসহ প্রায় সব ধরনের  নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে।

রাজধানীর জিগাতলা সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আনিস মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, বাজারে এখন অনেক শীতের সবজি রয়েছে। শীতকালীন সবজির দাম এখন কমতির দিকে। শীতের সবজির দাম কমার কারণে সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজিগুলোর দামও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে নেমেছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম আরও কমতে পারে। 

সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারে সবজি ক্রয় করতে আসা রিকশাচালক রিপন মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, শীত আসার কারণে সবজির দাম কমেছে, সেটা ভালো। কিন্তু মোটা চালের দাম এখনো আকাশছোঁয়া। তেল, চিনি, ডালের দামও বাড়ার পর আর কমছে না। আমাদের মতো নিম্নবিত্তের মানুষেরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এখন আমনের ভরা মৌসুমেও চালের বাজারে আগুন। মোটা চালের দামও নাগালের বাইরে। মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে!

রায়হান/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়