ঢাকা     রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩১

‘জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বাংলাদেশ’ 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩১, ৩০ মে ২০২৪  
‘জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বাংলাদেশ’ 

মতিঝিলে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠক করেন আইএমও’র মহাসচিব

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, হংকং কনভেনশন প্রতিপালন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত আন্তরিক এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সর্বাত্মক সহয়োগিতা প্রয়োজন। আইএমও মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে দিয়ে এতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা যায়।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর মতিঝিলে নিজ দপ্তরে আইএমও’র মহাসচিব আরসেনিও অ্যান্তোনিও ডমিনগুয়েজ ভেলাসকোর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। 

মন্ত্রী বলেন, জীবনের শেষ সীমায় পৌঁছানো জাহাজের নিরাপদ এবং পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ২৫ জুন হংকং কনভেনশন অনুসমর্থন করে। সে হিসেবে আগামী ২০২৫ সালের ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশকে কনভেনশন প্রতিপালন করতে হবে এবং সকল ইয়ার্ডে ট্রিটমেন্ট স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফেসিলিটি (টিএসডিএফ) নিশ্চিত করতে হবে। 

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বাংলাদেশের এ সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আইএমও এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ গ্রহণসহ করণীয়সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। 

মন্ত্রী হংকং কনভেনশন প্রতিপালনে শিপইয়ার্ড মালিকদের জন্য উন্নয়ন সহযোগী বা আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে সফট লোন পেতে আইএমও’র সহযোগিতা কামনা করেন। তাছাড়া, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনেও আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সহায়তা চান তিনি।

আইএমও মহাসচিব বলেছেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে আইএমও প্রবর্তিত হংকং কনভেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এ শিল্পের টেকসই, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ স্বচক্ষে দেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আমার এ সফর। 

তিনি বলেন, এ শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে দেখে আমি খুশি। আমরা এ শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে আইএমও‘র পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। 

বাংলাদেশ সরকার ও আইএমও‘র সহযোগিতায় বাংলাদেশে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও নির্মাণ শিল্প আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন আইএমও’র মহাসচিব।

সাক্ষাৎকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্বে) এস এম আলম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরক্ত সচিব ড. শাহ্ মো. হেলাল উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৮০ সাল থেকে জাহাজ রিসাইক্লিং করে আসছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শতাধিক শিপ সাইক্লিং ইয়ার্ড রয়েছে। ইয়ার্ডগুলোর মধ্যে ৫০টি চালু আছে। দেশের সামগ্রিক লোহার চাহিদার প্রায় ৬০ ভাগ আসে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প থেকে। প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

এএএম/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়