‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই’ এ অভিযোগ করছে না কোনো দল: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই, এমন অভিযোগ কোনো রাজনৈতিক দল করছে না। এখন পর্যন্ত পরিবেশ গ্রহণযোগ্য আছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না।
সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে নির্বাচনের যে পরিবেশ আছে, সেটাকে আপনি ঠিক মনে করছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা আপনি কয়েকটা আঙ্গিকে দেখতে পারেন। একটা হচ্ছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে কাজগুলো অন্য সকল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন করে, সেই কাজগুলো শুরু হয়েছে কি না। সেই কাজগুলো যথাযথভাবে চলছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা খুবই আগ্রহ উৎসাহ নিয়ে এগুলো মনিটর করছেন। কোথাও কোনো ব্যত্যয় হলে তারা সে কথাগুলো বলছে। ফলে, নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করায় সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করছে। বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যেমন: ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে শুরু করেছে উঠোন বৈঠক, গ্রামে গ্রামে গিয়ে মাইকিং করা। নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলকে কিন্তু এরকম বলতে দেখছি না যে, পরিবেশ নাই, নির্বাচন করব না। কাজেই আমি কেন ধরে নেব যে পরিবেশ নাই।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, একটা ফোর্স তো কাজই করছে যে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানুষকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় কি না। সেটা তো আমরা কোনোভাবেই সফল হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশের নির্বাচন তো আপনিও দেখেছেন, আমিও দেখেছি। নির্বাচনি সহিংসতার একটা মাত্রা থাকে। কিন্তু, তার ওপরেও একটা অতিরিক্ত মাত্রা আরোপ করে মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেজন্যই আপনাদের কাছে আহ্বান করছি, মানুষকে ভীতির পরিবেশের ঊর্ধ্বে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। জনগণ ভোট দিয়ে তার প্রশাসক নিয়োগ করবে। আপনি গণমাধ্যম হিসেবে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করার জন্য মানুষকে সেই কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন। কাজেই আপনার প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে যে, এখনো পর্যন্ত পরিবেশ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে। যে কাজগুলো করার কথা, সেই কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি।
উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কাজেই পরিবেশ গ্রহণযোগ্য না, এই কথাটা বলব না। সরকার নির্বাচনের একটা ক্লিয়ার রোডম্যাপ দিয়েছে। আপনার গণভোটের মেসেজগুলো আছে, কাজেই নির্বাচনের দিকে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাচ্ছে।
গণভোটের প্রসঙ্গে তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের বিষয়টা একটু প্রচার করতে হবে। গণভোটে আসলে কী কী প্রস্তাবনা আছে? কেন মানুষকে এটাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এটা নিয়ে একটু ইতিবাচকভাবে যদি আপনারা প্রচার করেন, মানুষ কিন্তু এটা দেখে। সরকারের কাছে কিছু বার্তা রেডি আছে। সরকারের একটা ন্যারেটিভ আছে, আপনারা সেটা আমাদের কাছ থেকে একটু নিয়ে নেবেন।
তিনি বলেন, মানুষকে আসলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মানে মানুষ খুবই চায়, ভোট দিতে। কিন্তু, তারপরও ভোট যাতে দিতে না পারে, একটা ভয়-ভীতি দেখানোর টেন্ডেন্সি আছে। এটাকে আমাদের ওভারকাম করতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তো আপনারা করছেন, সেই অংশগ্রহণমূলক বলতে কি আওয়ামী লীগও থাকছে? এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যার যেই রাজনৈতিক অবস্থান, সে সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নানা কথা প্রচার করা শুরু করে। এগুলো কোনো ভিত্তি এখনো পর্যন্ত আছে বলে এখনো পর্যন্ত আমার জানা নেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টা হচ্ছে যে, খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম, খুবই ভালো হত। কিন্তু, আনফরচুনেটলি, খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে...যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে, ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়। সেরকম জায়গায় আমাদেরকেও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি এবং করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
সম্প্রচার অধ্যাদেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রচার অধ্যাদেশ মোটামুটি একটা খসড়া করা হয়েছে। ওটা আরেকটু ফাইনাল টিউনিং করে হয়তো আগামী সপ্তাহ থেকে এভেলেবল করব। আর মিডিয়া কমিশনের যেটা একটা দাবি আছে, সেই মিডিয়া কমিশনটার মধ্যেই সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিধান রেখে হয়ত একটা খসড়া করে দিয়ে যেতে পারব। বাকিটা আপনাদেরকে পরের সরকার থেকে হয়ত আদায় করতে হবে।
ঢাকা/এএএম/রফিক